দীপক দাস বেরোচ্ছিলাম ‘অমৃতি কুম্ভের সন্ধানে’। রংবেরঙের অমৃতি ভাজা হচ্ছে খিলার এক জায়গায়। অমৃতি একরঙা। সেই ছোট থেকেই দেখে আসছি কমলা। হলদে, সবুজ, গোলাপি, এত রংদার হয় জানা ছিল না। সরেজমিন দেখতে হয় ব্যাপারটা। জায়গাটা হাওড়া জেলাতেই। উদয়নারায়ণপুরের খিলা। পিতৃদেব খিলা শুনিয়াই কহিলেন, ওইখানে নাকি আলামোহন দাশের বাড়ি। আলামোহন দাশকে বহু বছর থেকেই চিনি। কিন্তু […]
ইতিহাস ছুঁয়ে
বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতি ছুঁয়ে
দীপক দাস ইচ্ছে ছিল নেগুয়ায় যাওয়ার। ‘সাহিত্য সম্রাট’এর স্মৃতি বিজড়িত স্থান। নেগুয়া মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর ছিলেন। সমুদ্র তীরবর্তী এই এলাকাবাসের অভিজ্ঞতা ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসে রয়েছে। নেগুয়া মহকুমা এখন আর নেই। কাঁথি মহকুমা হয়েছে। তবে বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতি রয়েছে এখনও। নেগুয়া এখনকার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পড়ে। যাওয়া হয়নি কাঁঠালপাড়াতেও। তবে গিয়েছিলাম হুগলির চুঁচুড়ায়। ২০১৯ সালে। […]
হারানো বৈভব আর হঠাৎ পাওয়া কিছু ঐশ্বর্য
সপ্তপর্ণা ভট্টাচার্য্য অজানা পথ, অচেনা গন্তব্য, অদেখা সহযাত্রী। গতানুগতিক জীবনে যদি হঠাৎ করে এই সমন্বয় এসে উপস্থিত হয় তা হলে তার স্বাদ চেটেপুটে উপভোগ করার যে অনুভূতি তা সারা জীবনের জন্য স্মৃতির খাতায় মূল্যবান সম্পদ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে রয়ে যায়। সে স্বাদই পেয়েছিলাম জোড়া সফরে। গঙ্গাটিকুরি জমিদারবাড়ি দেখেছিলাম প্রথমে। সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম সোনারুন্দি রাজবাড়ির […]
গঙ্গাটিকুরি জমিদারবাড়িতে খোঁজ ‘হেলির ধূমকেতু’র
সপ্তপর্ণা ভট্টাচার্য্য শামুকের খোলস থেকে নিজেকে মুক্ত করে কোনও দিন একা নিরুদ্দেশে পাড়ি দেব, এই ভাবনাটা মনে প্রশ্রয় দিইনি। অজানাকে জানার নেশা মনের মধ্যে ঘুমিয়ে ছিল। সেই ইচ্ছেটুকুকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাহসটুকু কোনও দিন করে উঠতে পারিনি। কিন্তু কী হল জানি না, হঠাৎ এ বছর নিজের জন্মদিনে নতুন করে জন্মাতে ইচ্ছে করল। ইচ্ছেডানায় ভর করে […]
‘গ্রামরত্ন ফুলিয়া’য় কৃত্তিবাসের স্মৃতিপরশে
দীপক দাস রেল কোম্পানির ভারী একটা বদভ্যাস আছে। একটা নয়, হয়তো অনেক আছে। আমি স্টেশনের কথা বলতে চাইছি। কোনও কোনও সময়ে যেখানে খুশি স্টেশন খাড়া করে দেয়। সেখান থেকে অভীষ্ট গন্তব্যের হদিশ মেলে না। আমরা বেগুনকোদর স্টেশন যেতে গিয়ে বুঝেছিলাম। বেগুনকোদর বলে যে জায়গা পরিচিত সেখানে স্টেশন তো দূরের কথা, রেললাইনই নেই। স্টেশনে নেমে ভারী […]
সোনারুন্দি রাজবাড়ি অভিযানে
ফারুক আব্দুল্লাহ বেশ কয়েক বছর থেকে পরিকল্পনা চলছিল সোনারুন্দি বা বানোয়ারীবাদ রাজবাড়িতে যাওয়ার। কিন্তু সম্ভব হচ্ছিল না কিছুতেই। একমাত্র এই রাজবাড়িতে যাওয়ার জন্য কয়েক বছরে প্রায় ১০-১৫ বার পরিকল্পনা করেও ব্যর্থ হয়েছি। তাই ভেবেছিলাম কোনও পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই একদিন হঠাৎ করেই বেরিয়ে পড়ব। বন্ধু শুভায়ুর বহুদিন থেকেই বলছিল দেখা করার জন্য। কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য। […]
সোনামুখির শোলা ও সিল্ক পাড়ায়
দীপক দাস চোখ বোলানোই বলা যায়। পরীক্ষার আগে চোখ বোলানোর একটা অর্থ হয়। আগে পড়া আছে, সেটা আরেকবার দেখা। এই চোখ বোলানো একেবারেই উপর উপর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এগিয়ে নিয়ে চলা পেশার কিছুই ক্ষণিকের দেখায় বোঝা সম্ভব নয়। তবুও গিয়েছিলাম। অন্তত দেখাটা তো থাক। আবার কোনও দিন এ দিকে আসা হবে কিনা জানা নেই […]
সোনামুখির হাতি-ঘোড়া
দীপক দাস দেওয়াল লিখন ঠিকঠাক পড়তে না পারলে বিপদ। কথাতেই আছে। না পড়তে পারলে রসাতলে যেতে হয়। যেতে হয়নি আমাদের। তবে খেতে হয়েছিল। অচেনা এক ভদ্রমহিলার মুখের উপর বলে দিয়েছিলেন, ‘‘আপনি ভুল দেখেছেন।’’ ওই দেওয়াল লিখন আর কী। উঁচু স্বর, প্রতিবাদের সামনে আমি বরাবরই ঘাবড়ে যাই। গলা শুকিয়ে যায়। স্বর হয় মিনমিনেতর। ঠোঁটে আপনা থেকেই […]
বনকাটির কাঠের খেলনা-পুতুল পাড়ায়
দীপক দাস থমকে যাওয়া সময়ের আলো। সে আলো দেখেছি আমরা। দেখেছি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী হাতের কাজের পাড়ায়। সেখানকার শিল্পীরা যেন এক একটি সময়কে আগলে রেখেছেন হাতের আঙুলের শিল্পকলায়। হাওড়া জেলার কুমোর পাড়া, পুরুলিয়ার দুয়ারসিনিতে বাবুই ঘাসের দড়ি, ওড়িশার কুলিয়ানা গ্রামের ডোকরা শিল্প। কবেকার সব শ্রাবস্তীর কারুকার্য! এই রকমই এক ঐতিহ্যের আলো দেখতে পেয়েছিলাম কিছুদিন আগে। গড়বেতার […]
শিলাবতীর পাড়ে মন্দিরের ভোগে মধ্যাহ্নভোজ
দীপক দাস ‘খেয়েছেন?’ হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নটা আসতেই প্রমাদ গুণলাম। ঘর জোটেনি। খাবার জুটবে কিনা সন্দেহ। দলের একজনের জঠরানল গলা পর্যন্ত উঠেছে। মাথায় উঠতে আর খানিক বাকি। মাথায় উঠলে বড় বিপদ। গালি খেতে হবে আমাকে। হাতাহাতিও হতে পারে। পেটের আগুন মাথায় উঠতে দিলে হবে না। খাবার দিয়ে ঠেকাতে হবে তার আগেই। কিন্তু খাবার পাই কোথায়? আরাবাড়ি জঙ্গল […]










