পাহাড়িয়া বাঁশি বিশেষ ভ্রমণ

ট্রিপ ইজ লাইফ। লাইফ ইজ ট্রিপ— শেষ পর্ব

রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়

আওয়াজটা যখন কাছাকাছি চলে এলো দেখলাম একটা বাস। সাইড দেওয়ায় আমাদের টপকে গেলো। ফাঁকা বাসটার গায়ে দেখলাম লেখা আছে রাঁচি-নেতারহাট।

উফফফ! শান্তি। ঠিক রাস্তায় আছি। এবার রজতদা প্রাণপণে বাইক চালাল বাসের পিছুপিছু। রাস্তার দিকে আর নজর নেই যেন তেন প্রকারেণ বাসটাকে ফলো করতেই হবে। বাসের পিছনে আরও ২৫ মিনিট চলার পর একটা মাইলফলক দেখলাম নেতারহাট ২ কিমি। অদ্ভুত ব্যাপার নেতারহাটের এত কাছে চলে আসার পরও একটা আলো চোখে পড়ল না।

আরও মিনিট দশেক পর প্রথম আলো চোখে পড়ল। সে যে কী খুশি লিখে বোঝানো যাবে না। আরও কিছুটা গিয়ে দেখলাম কয়েকটা ঝুপড়ি দোকান। হাতে গোনা চার-পাঁচটা। বন্ধ করার মুখে। তারপর একটা বড় গেট। সেখানেই দেখলাম হোটেল প্রভাতবিহার ডান দিকে পাঁচশো মিটার। গুগুলে নেতারহাট হোটেল দেখতে গিয়ে এই একটাই চোখে পড়েছিলো। চললাম ওদিকেই। ও হ্যাঁ, আপনি যদি ভাবেন নেতারহাটে প্রচুর ঘরবাড়ি, প্রচুর আলো, তাহলে ভুল ভাবছেন। হাতে গোনা ৬-৭টা থাকার জায়গা। তাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে। স্থানীয় লোকের থাকার জায়গাও ৮-৯ ঘর। অন্তত যতটা দেখা যায়। রাস্তার আলো নেই। বাড়ির আলোগুলো টিমটিম করছে।

যাই হোক। প্রভাতবিহারে পৌঁছে দেখলাম পৌনে আটটা। এসি ডাবলরুম। তবে কারেন্ট প্রায় থাকে না বললেই চলে। আর কেন যেন হোটেলের পরিবেশটা ঠিক ভালো লাগল না। তাই পিছনে দেখা আর একটা ছোট হোটেলে এলাম ঘরের খোঁজে। হোটেল সানরাইজ। ঘর ৮০০ টাকা। মোটামুটি ঘর দুজনের জন্য। পরিষ্কার বাথরুম। তবে হ্যাঁ নেতারহাটে আলাদা থাকার জায়গা বলে কিছু নেই। যে হোটেলে থাকবে তারই খাওয়ার জায়গায় খেতে হবে। রাতের খাওয়ারের অর্ডার দিলাম রুটি, তরকা, আর ডিমের কারি। লোকটা বললো আর আধ ঘণ্টা দেরি হলে আর ওরা ডিম কিনতে পারত না। মোবাইলে দেখলাম সওয়া আটটা। নেতারহাটে শুধু বিএসএনএল টাওয়ার থাকে। আর ঘরের বাইরে অল্প এয়ারটেল। বাড়িতে ফোন করলাম এয়ারটেলটা থেকে। মার কথা শুনে মনে হলো, আমি নেতারহাটের এয়ারসেল, জিও’র টাওয়ার এসেই ভেঙে দিয়েছি, তাই ফোনে পাওয়া যায় নি।

যাই হোক খাবার দিতে আধ ঘণ্টা লাগবে। সব মাল ঘরে ঢুকিয়ে। আমি আর রজতদা টর্চ নিয়ে বেরোলাম। কারেন্ট অফ। হাঁটতে লাগলাম দুজনে। ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে। দুদিকে শাল, সেগুনের জঙ্গল। আর পূর্ণিমার মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় চাঁদ প্রায় পুরোটাই দেখা যাচ্ছে। টর্চের আলো জঙ্গল চিরে চলে যাচ্ছিলো অনেকটা। রাস্তায় আমরা দু’জন। আলো বলতে শালের জঙ্গলের ফাঁক দিয়ে আসা চাঁদের আলো। এবার মনে হলো সব কষ্ট সার্থক। এটাই তো চেয়েছিলাম। এই সৌন্দর্যের কোন বিকল্প নেই। পায়ের ব্যথা কখন যে উধাও হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। বেশ কিছুক্ষণ ঘুরে খেয়ে এসে হোটেলের বিছানার আশ্রয় নিলাম। ঘড়িতে তখন সওয়া ৯টা। এই সময় অফিসে থাকলে টিফিনফিফিন খাই। আর এখানে পালামৌয়ের জঙ্গল, পাহাড়ের কোলে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।

চোখ বন্ধ করেছিলাম শুধু মনে আছে। তারপর আর কিছু মনে নেই। এতো গভীর ঘুম শেষ কবে ঘুমিয়েছিলাম মনেও পড়ে না। সেই সুন্দর ঘুমটাই ভাঙল কুৎসিত ভাষার আক্রমণে। প্রথমে বুঝতে পারিনি। যখন বুঝলাম দেখলাম রজতদা ধাক্কা মারছে আর বাংলা ভাষার আবিষ্কৃত কোনও খিস্তিই বাদ রাখছে না। আমি চোখ বন্ধ করেই বললাম, রজতদা ৯টার সময় বেরোই বরং। তারপর একটাই কথা শুনলাম, ‘তুই থাক, আমি বেরোলাম।’

এই মারাত্মক হুমকির পর আর শুয়ে থাকা যায় না। আমিও পারলাম না। গা থেকে কম্বলটা যেই সরালাম একটাই কথা বেরোলো ‘ওহহহহ মাহহহহ গোহহহহ কীঈঈঈ ঠান্ডাআআ’। নেট কাজ করছিলো না। তবে আমার মনে হল ঠান্ডা ১২-১৩ ডিগ্রি ছিল। এবার মুশকিলটা হলো গরম জামা কিছুই নিয়ে যাইনি। অগত্যা নিয়ে যাওয়া তিনটে টিশার্টই একটার উপর একটা পড়ে নিলাম। তাও ঠান্ডা হাওয়ায় হাড় কাঁপাচ্ছিল। তাই রেন কোটটাও চাপিয়ে নেওয়া গেলো। বাইক ট্রিপের একটা বড় ঝামেলা হলো মাল বাঁধা। বেশ ঝামেলার কাজ এবং সঙ্গে সময়সাপেক্ষও।

সব মিটিয়ে যখন বাইক স্টার্ট হলো ৬টা ৩৫। মেঘলা আকাশ। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। আর সঙ্গে ঠান্ডা হাওয়া। ও একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। নেতারহাটে কোনও পেট্রোল পাম্প নেই। তেল ভরতে হবে ব্ল্যাক-এ। অতএব বাইক নিয়ে যাওয়া হলো গতকাল দেখা সেই ঝুপড়ি দোকানগুলোয়। ৮০ টাকা লিটারের তেল ভরা হলো ৬ লিটার। আপাতত কাজ চলার জন্য। ওখানেই জিজ্ঞেস করলাম কাছকাছি যাওয়ার জায়গা কোথায় আছে। সানরাইজ পয়েন্টে গিয়ে কোনও লাভ নেই। আকাশে ঘন মেঘ। বলল কাছকাছি একটা লেক আছে। আর ৪৩ কিমি দূরে একটা ফলস আছে। সেই ফলসটা নাকি সৌন্দর্যে দশম ফলস আর হুড্রুকে হার মানিয়ে দেবে। ওটা বেতলার রাস্তায়, নাম লোধ ফলস। ঠিক আছে আগে তো লেকটায় যাওয়া যাক।

লেকে গেলাম। মেরেকেটে ৭০০ মিটার বাইক চলার পরই দেখতে পেলাম লেক। আমাদের এখানে ওরকম ঝিল গ্রামে গঞ্জে হরদম আছে। ওখান থেকে ফেরার পথ ধরতে তাই খুব একটা দেরি করলাম না। লোধ ফলস যেতে হলে আমাদের বেতলার রাস্তা ধরতে হবে। অতএব আলবিদা নেতারহাট। ফিরে আসবো আবার। এই কথা দিয়েই আবার ছুটলো রজতদার রয়েল এনফিল্ড। তখনই সকালের আলোয় ভালো করে দেখলাম নেতারহাটকে। পাহাড়, জঙ্গল, বৃষ্টি, মেঘ, আর পিচ ঢালা রাস্তা। টিপটিপ বৃষ্টির ফোঁটাগুলো এসে পড়ছিলো মুখের উপর। মাঝে একবার জঙ্গলেই বাইক থামিয়ে খানিক ফটো তোলা। তারপর আমরা ধরলাম বেতলার রাস্তা। প্রথমে বেশ কিছুক্ষণ পাহাড় টপকানোর পর শুরু হলো নীচে নামা।

তখন মোটামুটি সকাল। একটার পর একটা নাম না জানা গ্রাম। আর দূরে পাহাড়। মাঝে ঢেউ খেলানো রাস্তা। দুপাশে চাষের জমি। রাস্তার পাশ দিয়ে স্কুল যাওয়া কিশোর, কিশোরীদের চোখ কিন্তু আটকে যাচ্ছিলো আমাদের বাইকে, আমাদের পোশাকে। সে চোখে অপার বিস্ময়। হেলমেট, এলবো গার্ডে আমরা তখন যেন ওদের কাছে কোন অন্য গ্রহের প্রাণী। স্থানীয় লোকের কাছে শুনলাম লোধ ফলস আর বেশি দূর না। লোধ ফলসের আগে মহুয়াডোর নামে বেশ একটা বড় গঞ্জ পড়বে। সেখানে নাকি পেট্রোল পাম্পও আছে। আমরা ভেবে নিলাম, মহুয়াডোরেই বাইকের ফুল ট্যাঙ্কি করে নেবো। সঙ্গে ব্রেক ফার্স্টের পর্বটাও মিটিয়ে নেবো।

কিন্তু মহুয়াডোরে ঢোকার মুখেই খটকা। একটা ট্রাক্টর রাস্তার আড়াআড়ি দাঁড়িয়ে আছে। আর কেমন যেন সব শুনশান। কি কেস? যাই হোক কোন রকমে ট্রাক্টরের পাশ দিয়েই বাইক নিয়ে বেরোনো গেলো। আবার কিছূটা এগোনোর পর রাস্তা বন্ধ। এবার দুটো বাঁশ দিয়ে আড়াআড়ি। চারপাশ পুরো ফাঁকা। মোড়ে মোড়ে জটলা। সব দোকান বন্ধ। সব মিলিয়ে বেশ থমথমে পরিবেশ। বুকটা বেশ ফাঁকা ফাঁকাই লাগলো। কিন্তু আমাদের দিকে অবাক হয়ে তাকালেও কেউ কিছু বললো না। বরং লোধ ফলস কোন দিকে জিজ্ঞেস করায় তাঁদেরই একজন পথ বাতলে দিলেন। কিছুটা এগিয়ে বুঝলাম খাবারের দোকান তো বন্ধই, পেট্রোল পাম্পটাও বন্ধ। তবু পথ চলা থামলো না। মহুয়াডোর থেকে রাস্তাটা খানিক ডানদিকে ঘুরে আবার গ্রামের রাস্তায় ঢুকলো।

এবারে একটা অদ্ভুত বিষয় লক্ষ করলাম। সব বাইক, ছোট অটোর নাম্বার প্লেটে আর ঝাড়খন্ড নেই, বদলে চলে এসেছে ছত্তিশগড়। তাহলে কি আমরা বর্ডারে চলে এসেছি? জিওর টাওয়ার নেই। তাই ম্যাপ দেখারও উপায় নেই।

মহুয়াডোর থেকে লোধ ফলস কিছু না হলেও আরও ২০ কিমি মতো। গ্রামের খুব কম লোকই চেনে লোধ ফলস। তাই কিছুটা রাস্তা ভুল করে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তারপর আবার ফিরে বাঁদিকে গ্রামের ভিতরের রাস্তা ধরলাম। রাস্তা নামেই। পিচ বলে কোন বস্তু নেই। যত রাস্তা এগিয়েছে তত খারাপ হয়েছে। কিছুটা রাস্তা মোরামের। কিছুটা জঙ্গল। যেখানে সেখানে রাস্তা কাটা। বাইক গর্তে না ফেলে চালানোটাই আর্ট। জনমনিষ্যি নেই। কখনও ছোট ছোট গ্রাম আবার কখনও দু’দিকে জঙ্গল, পাহাড়ি রাস্তা। পাথুরে রাস্তায় বাইক লাফাচ্ছে। নাড়িভুড়ি সব এদিকওদিক হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে বাইক থেকে এতটা লাফিয়ে উঠছি মনে হচ্ছে হাইজাম্পে নেমেছি।

রাস্তা যতটা খারাপ। ঠিক ততটাই মন কাড়া চারদিকের সৌন্দর্য। শুধু সবুজের সমারোহ। মাঝে মাঝে মনে হবে আদৌ মানুষ থাকে তো? রাস্তায় কিছু আদিবাসী মানুষ দেখা গেলেও তাঁদেরকে লোধ ফলসের বিষয়টাই বোঝানো সম্ভব হলো না। পেটে ছুঁচো ডন মারছে। আর খাবারের কোন ব্যবস্থাও নেই। বাইকে তেলও কমছে। রাস্তা ভুল করলাম না তো? কারণ বেশিরভাগ রাস্তাটাই গেছে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে। আর রাস্তা বলতে খানিক পরিস্কার জায়গা। কোন গাড়ির চাকার দাগও নেই যে বুঝবো। হঠাৎ রাস্তায় একটা নালা পড়লো। ছোট্ট নালা। তবে নেমে যেতে হলো আমাকে। পার হতে গিয়ে জুতো, মোজা ভিজে একাকার। আরও কিছুক্ষণ এরকম রাস্তা দিয়ে চলার পর রাস্তা শেষ হয়ে গেলো। আর সেখানেই দেখলাম একটা বাঁধানো বসার জায়গা। আর সামনে খাড়াই পাহাড়ে পথ চলা রাস্তা।

বাইক থেকে নামার পর বুঝলাম চারিদিকটা কি ভীষণ রকম শান্ত। আওয়াজ বলতে জঙ্গলের মধ্যে একটানা পোকার ডাক। মাঝেমাঝেই পাখি ডাকছে। আমরা এবার ক্যামেরা হাতে নিয়ে পাহাড় চড়তে থাকলাম। আর যত উঠলাম জলের শব্দ শুনতে থাকলাম। প্রথমে আস্তে। যত এগোলাম গর্জন বাড়লো। পাহাড়ের গাছপালার ফাঁক দিয়েই প্রথম দেখলাম লোধ ফলসকে। মুখ দিয়ে একটাই শব্দ বেড়োলো আহা! কষ্ট সার্থক। এতদিন এতো ফলস দেখেছি। এত ন্যাচারাল! না মনে পড়ছে না। যখন পাহাড়ি পথ বেয়ে ফলসের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, পথের কষ্ট কোথায় যেন হারিয়ে গেলো। আমি আর রজতদা কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলাম। মনে হলো আর কিছু চাই না জীবনে। এটাই তো স্বর্গ। একটা বড় ঝরনা। পাশে দুটো ছোট ছোট। প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে পড়ছে নীচে। তারপর প্রবল বেগে আমাদের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে নিজের গন্তব্যে। রঙিন প্রজাপতি উড়ছে ইতিউতি। শুরু হলো ফটো তোলা। প্রায় ৪০ মিনিট ছিলাম ওখানে। ওই সৌন্দর্য আমরা পরের ৪০ বছরেও ভুলতে পারবো কিনা সৌন্দর্য।

ফেরার পথের গল্পটা ইচ্ছা করেই ছোট করছি। আমরা ফিরব রাঁচি। লোধ ফলস থেকে রাঁচি ২০০ কিমি। আমরা ফিরব গুমলা হয়ে। এবারের রাস্তা আর পাহাড়ি নয়। গ্রামের মধ্যে দিয়েই এগিয়েছে রাস্তা। অসাধারণ রাস্তা। তবে একটু সরু। অন্য দিক থেকে বড় গাড়ি চলে এলে সমস্যা হচ্ছিলো। এই রাস্তাটার ধারে পরপর জাম গাছ। জাম পড়ে পুরো বেগুলি হয়ে গেছে। আমরা মাঝে একটা দোকান থেকে কেক, বিস্কুট আর জল তুললাম। তারপর থামলাম গুমলায়। গুমলা বেশ বড় শহর। বেশ বড় মানে বেশই বড়। জেলা সদর। তাই ওখানে একটা দোকানে ভাত, মাংস খেয়ে বাইকে ফুল ট্যাঙ্কি তেল ভরে চললাম রাঁচির দিকে। গুমলা থেকে রাঁচি ৯৫ কিমি মতো। ভেবেছিলাম দশম ফলস ঘুরে রাঁচি ঢুকব। কিন্তু যখন রাঁচি পৌছালাম দেখলাম দশম ফলসে সময়ে পৌঁছতে পারব না।

রাঁচি শহরে ঢুকে আরেক সমস্যা। আমরা ভুল করে শহরের বাইরে চলে গিয়েছিলাম। হোটেল পেতে চরম ভোগান্তি। আবার বাইক ঘুরিয়ে আসতে হলো রেল স্টেশনের দিকে। ওখানেই একটা হোটেল নিলাম। কিছুক্ষণ হোটেলে বিশ্রাম নিয়ে বেরোলাম। সময় কাটছিল না তাই দুটো মল ঘুরলাম। তারপর একটা দোকানে বিরিয়ানি বলে যা খেলাম সেটাকে খুব জোর মাংসের ঝোল দিয়ে মাখা ভাত বলা যেতে পারে। অতঃপর হোটেলে পুনরাগরম।

পরের দিন অফিস জয়েন করতে হবে আমাকে। তাই আবার বেরিয়ে পড়লাম সাড়ে ছটায়। তবে সরাসরি বাংলায় ফেরায় আগে একবার হুড্রু ফলসটা দেখে যেতে হবে। হুড্রু ফলস রাঁচি-পুরুলিয়া রোড থেকে ভিতর দিকে ২৫ কিমি মতো। আমরা যখন পৌঁছলাম তখনও গেট খোলেনি। টিকিট কাউন্টারেও লোক নেই। আমাদের হাতে অপেক্ষা করার মতো সময়ও নেই। তাই গেটের পাশ থেকে বাইক ঢুকিয়ে দিলাম। সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করলাম। নামছি তো নামছি। নামছি তো নামছি। ৭৩৫টা সিঁড়ি বোধহয়। নামার পর আমার পা রীতিমতো কাঁপছিল। রজতদা ফলসের কাছে চলে গেলেও আমি আর গেলাম না। লোধ ফলস ঘুরে আসার পর এটা ঠিক জমলোও না। সঙ্গে ভিড়ও বাড়ছিল। ওপরে ওঠার সময় দম আটকে যাওয়ার জোগাড়। উপরে উঠে লেবুর জল খেয়ে একটু তৃপ্তি পেলাম। সাড়ে আটটা নাগাদ বেরোলাম হুড্রু থেকে।

তারপর শুধু বাইক চলা। ১০০-১১০ কিমি তে বাইক চালাচ্ছিলো রজতদা। রাঁচি-পুরুলিয়া রোডের সৌন্দর্য বারবার টানলেও বাইক থামেনি। ঝাড়খণ্ডের একটা জায়গার নাম দেখলাম ঝন্টিপাহাড়ি। তাহলে কি সত্যিই আছে জায়গাটা? পুরুলিয়া ঢুকে ঝালদায় ব্রেকফাস্ট করলাম। আটটা ছোট কচুরি, দুটো জিলাপি ১০ টাকা প্লেট। আমাকে রজতদা দুর্গাপুর নামালো ২.৪০। তারপর সঙ্গে সঙ্গে বাসের টিকিট কেটে বাস ধরলাম। অফিস ঢুকে গেলাম সাড়ে ছটায়।

প্রথম বাইক ট্রিপ। তারপর এতটা রাস্তা। অবশ্যই স্পেশাল আমার কাছে ভীষণ। তাই হয়তো একটু বেশি লিখে ফেললাম। তবে এটাই শেষ নয়। আমাদের বাইক ট্রিপ চলবে ভবিষ্যতেও।

ছবি— লেখক

(সমাপ্ত)

Please follow and like us:

One thought on “ট্রিপ ইজ লাইফ। লাইফ ইজ ট্রিপ— শেষ পর্ব

  1. দারুণ লাগল। দাদা, আরও হোক। পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *