পুরুলিয়া
পাহাড়িয়া বাঁশি বিশেষ ভ্রমণ

চেমটাঠাকুরানির সংসার আর পাহাড়চুড়োর গান-২

দীপ্তেন্দুবিকাশ জানা

তখন অনেকখানি চড়াই পার হয়ে গিয়েছে। শুরু থেকেই কাকুর যত্নে পরামর্শে আমরা এসেছি এতটা পথ। কোথায় পা দিলে বিপদ হবে, কোথায় একটু থিতু হওয়া যাবে, সারাটা পথ সে-বিষয়ে তিনি বলতে বলতে চলেছেন। সঙ্গে আছে নানারকম গল্প। সে-কথা কখনও আমাদের জিজ্ঞাসার উত্তর, কখনও ব্যক্তিগত নানা সুখ-দুঃখের স্বগতোক্তি। কখনও আবার চলতি পথে তিনি সংগ্রহ করে নিচ্ছেন বড়ই ইত্যাদির ডাল, কালকের জিতা পরবের জন্য। পথে হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়া মোষ-সন্তানদের উদ্দেশে স্নেহ সম্বোধন করছেন। তাদের কথাও ফিরে ফিরে আসছে নানা প্রসঙ্গে। তার মাঝেই বলে উঠছেন, ‘‘কাকু, বলছি একটু চাটান্যে উঠ্যি আর ছবিটা উঠ্যা। হাঁ কাকু!’’ এভাবে চলতে চলতে আমরা এসে পৌঁছলাম কঠিনতম চড়াইয়ের কাছে। অনভিজ্ঞ, অতি উৎসাহী আমাদের কাছে তা রোমাঞ্চকর।

পাহাড়চুড়োর সিঁড়ি।

তবে চড়াই ভাঙা কাকুর পক্ষে অনায়াস সাধ্য হলেও আমাদের কাছে তা কষ্টসাধ্য, বিপজ্জনকও বটে। তাই অর্পণ বারবার দেখে নিচ্ছে খাদের গভীরতা আর জপে যাচ্ছে তার বিমাহীন জীবনের দায়িত্বগাথা। এ-দেখাই শেষ দেখা হয়তো ভেবে কাকু-কাকিমার দায়িত্ব আমাদের উপর অর্পণ করতে চাইছে মাঝেমধ্যে। সৌরভ তার পূর্ব পূর্ব পাহাড়ি অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ, এই ধারণায় সেই দুর্গম পথেও অভিযানের ভিডিওতে ব্যস্ত। তবে এমন ভ্রমণসঙ্গীকে হারানো দুর্ভাগ্যের হলেও স্বস্তি এই যে তার জন্য আইনি দুর্ভোগ আমাদের ঘাড়ে এসে পড়বে না। আমাদের এ-ধারণায় সৌরভও সিলমোহর দিল। ক্যাপ্টেনকে নিজের সঙ্গে অন্যদের উপর কড়া নজর এবং নির্দেশ জারি রাখতে হচ্ছিল বলাই বাহুল্য। কাকুও এ-বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। তবে আমাদের ভয়-ভাবনা, উক্তি-প্রত্যুক্তির মাঝে তাল মেলাচ্ছিলেন তিনিও। এভাবেই উৎসাহ, ভয়, বিস্ময়, কৌতুকে ভর করে পাহাড় চুড়োয় পৌঁছনো গেল অবশেষে। কাকুর কাছেও এ শুধু অভ্যাস নয়, আনন্দযাত্রা যেন! তিনিও উৎসাহভরে দেখাতে চাইছেন চেমটার সৌন্দর্যসম্ভার।

পাহাড় ঘেরা খয়রাবেড়া।

উচ্চতম হোক বা না-হোক, চেমটার চাতাল থেকে একের পর এক পাহাড়শ্রেণির দৃশ্য বড়ই মনোরম। ঘন সবুজ, কালো, নীলে মেশানো আস্তরণে ঘেরা দূরের পাহাড়গুলো রূপে, নামে স্বতন্ত্র। দিকবদলে ঘটে চলেছে দৃশ্যবদল। একদিকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে পাহাড়শ্রেণির মাঝ দিয়ে বয়ে আসা মাছকান্দার ধারা ঘিরে তৈরি হওয়া জনপ্রিয় খয়রাবেড়া জলাধার ও পর্যটনকেন্দ্রকে। আরেক দিক শুধুই ঘন জঙ্গলে ঢাকা। বসতির কোনও লক্ষণ নেই। কাকু জানালেন, ওখানেই আছে এ-জঙ্গলের রাজা হাতিদের রাজত্ব। অন্যদিকে চোখে পড়ে ছোট ছোট কুঁড়ে ঘর আর ধান জমির নকশিগাঁথা।

চেমটা ঠাকুরানি।

চেমটার মাথাতেই অধিষ্ঠান করছেন এই পাহাড়-সংসারের মা, চেমটা ঠাকুরানি।পাহাড়চারী মানুষ অথবা পশুর তিনি রক্ষয়িত্রী। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা পাথরখণ্ডই তাঁর পুজো অথবা মানতের উপকরণ। কখনও পুজো পান ফলে, ফুলে, দুধে। বোধহয় পাথরের উপর পাথর জমেই গড়ে উঠেছে তাঁর এই অবয়ব। কাকুও পুজো দিয়েছেন কয়েক মাস আগে, তাঁর মোষ-সন্তানদের কল্যাণে। দুর্গমের অধিষ্ঠাত্রী দুর্গার সঙ্গে ঠাকুরানির যোগসূত্রের আভাস মনে জাগে হঠাৎ।

অভিযাত্রীদের কাছে চেমটা থেকে সূর্যাস্ত লোভনীয়। কাকু এ জন্যও তাড়া দিচ্ছিলেন শুরু থেকেই। যদিও মেঘলা আকাশে সূর্যাস্তের আভাসই পেলাম মাত্র। অভিযানের সাফল্যে তখন কম-বেশি সকলে আত্মহারা। নিজস্বীতে, প্রকৃতিতে বিক্ষিপ্ত ভাবে মগ্ন। এসবের মাঝেও ক্যাপ্টেনের মনে উঁকি দিচ্ছে ফেরার শেষ বাস সাড়ে ছ’টায়। ছ’টার মধ্যে নীচে নেমে সুধাংশুকে জানান দিতে হবে। উপরে নেটওয়ার্কের সাড়া নেই। তাই ঠাকুরানির কাছে বিদায় চেয়ে উতরানোর তোড়জোড় শুরু হল।

কিন্তু সে তো প্রস্তুতি মাত্র। খানিকটা নেমেই সৌরভকে প্রশ্রয় দিয়ে আমরা হাত-পা ছড়িয়ে বসলাম। হঠাৎ কী মনে হল, রমেশকাকুকে শুধালাম ঝুমুর গানের ব্যাপারে। ভূম-অঞ্চলের এ এক অমূল্য সম্পদ। খানিক ভেবে তিনি যা শুরু করলেন দু’কলি দিয়ে তা শেষ হল গোটা চারেক গানে। যে-জীবনের পটভূমি হিসেবে প্রকৃতি এখনও বেঁচে আছে সে জীবন থেকে উঠে আসা গান নিসর্গের মাঝে বসে শুনতে কেমন লাগবে ভাবুন তো?

গানের বিষয়ে রাধাকৃষ্ণলীলা যেমন আছে তেমনি আছে প্রতিদিনের যাপনকথা। আসন্ন জিতা পরবে গাওয়া হবে এমন কিছু জিতু গান শোনালেন তিনি‌। এও এক প্রকার ঝুমুর। জানলাম, এ-গানের দুটি অংশ। একটা শুধুই গানের জন্য আর একটা নাচের জন্য। দ্বিতীয় অংশটি ওঁর ভাষায় রং (রঙ্গ?)। প্রাচীন পাঁচালী রীতির নাচাড়ি, শিকলির ধারা এভাবেই যেন টিঁকে আছে আজও। বিষয়েও কখনও চর্যাগানের আভাস মেলে ডোমনী আর বিরহড়ের কথোপকথনে। শিল্পী রমেশ মাহাতোকে খুঁজে পেলাম এভাবেই। তিনিও এই সাবলীল আত্মপ্রকাশে উন্মুখ ছিলেন। পথেও কানে এল গুনগুন ধ্বনি।

প্রজাপতি জীবন।

ওঠার পথে যেমন নামার পথেও তেমনই মুগ্ধতার ঘোর কাটে না। যেন আর এক নতুন অভিযান, নতুন, নতুন দৃশ্য। নামার সময় পাহাড়-অভিজ্ঞ সৌরভের কীর্তিও আমাদের রোমাঞ্চিত করে তুলল। আমরা যেখানে পাথর আঁকড়ে নামতে নামতে কিছুটা বিপর্যস্ত সেখানে সৌরভ নির্দ্বিধায় হেঁটে নামার পন্থী। ক্যাপ্টেনের চিৎকারে, নিষেধাজ্ঞায়, অন্যদের আপত্তিতে পথের কাঁটা হয়ে উঠলাম। এই অনাবশ্যক খবরদারির মাসুল অবশ্য উসুল হয়ে গেছে মাছকান্দায়। সে এক করুণ কাহিনী।

যা হোক, জিরোতে জিরোতে আমরা নীচে নামতে থাকলাম। সন্ধ্যে নেমে আসছে চেমটার বুকে। ফিরতি পথে দেখি সবুজ পাতার শয্যায় এক ছোট্ট হলুদ প্রজাপতি চির শান্তিতে শায়িত। অনিত্য জীবনে এই বুঝি নিত্যকালের চাওয়া?

আমাদের ওঠা থেকে নামার পথে অতিরিক্ত কোনও মানুষের দেখা পাইনি একজন ছাড়া। আমরা যখন সেই ধারার কাছাকাছি তখন এক বৃদ্ধাকে উঠে আসতে দেখলাম। সংকীর্ণ পথ যতটা সম্ভব ছেড়ে দাঁড়ালাম ওঁর সুবিধায়। কাকুর সঙ্গে একটু বার্তালাপ সেরে তিনি আমাদের আশ্চর্য করে এগিয়ে গেলেন। যে-পথ জোয়ানদের কাবু করে সে-পথে ইনি কোথায় চলেছেন, এই সময়!? কাকু ইঙ্গিতে বোঝাতে চেষ্টা করলেন উপরে থাকা কোনও এক গ্রামের কথা। সে কী আর ঠাহর করা যায়। আমরা নেমে এলাম ধারার কাছে। ফিরতি পথেও সংগ্রহ করলাম তার জল।

এখন অন্ধকার আলো করে ফুটে আছে পুটুসের দল। তার মৃদু সুবাস ছড়িয়ে আছে চারপাশে। দূর থেকে দেখলাম, শেষবেলায় ডুংরি (ছোট পাহাড়) থেকে পরবের ডাল-পাতা সংগ্রহ করে রাস্তা দিয়ে ফিরছে গাঁয়ের যুবকেরা।

গাঁ পানে যুবকেরা।

নীচে নেমে ঘাসের উপর কিছুটা গড়িয়ে নিলাম। নামার পথেই সুধাংশু ফোন করেছিল। মিনিট পনেরোর মধ্যে সুধাংশুও উপস্থিত হল। কিন্তু যথারীতি উঁচু-নীচু পথ পেরিয়ে শেষ বাসকে ধরা সম্ভব হল না আমাদেরই গড়িমসির জন্য।

কারেংমোড়ের বাজার তখন আলো ঝলমলে। চায়ের দোকানে, চপ-জিলিপির দোকানে স্থানীয়দের আড্ডা জমে উঠেছে। আমরাও যোগ দিলাম। গাড়ি না পাওয়ার দুশ্চিন্তা আর নেই। এখন খরচ বাড়াই দস্তুর। সুধাংশুর গাড়িতেই পাড়ি দিতে হবে বাকি পথ। তাই ও থেকে গেল আমাদের সঙ্গেই। তবে নিজের জন্য নয়, আমাদের সুবিধার জন্যই। সারা রাস্তা গল্পে, আলাপ-আলোচনায় সে এতটা পথ উজিয়ে এল নামমাত্র মূল্যে। সেদিন বারবার ওর বাড়িতে থেকে যাওয়ার আন্তরিক আহ্বানকে রক্ষা করতে না পারলেও উপেক্ষা করতে পারিনি। তাই আবার ফিরতে হবে সেই সম্পর্কের টানে, কারণে এবং অকারণে।

রমেশকাকুর সঙ্গে আমরা।

পিনাকীবাবুর কাছে জেনেছিলাম চড়িদাতে ভাদুর চল কমে গেলেও লুপ্ত হয়নি। সন্ধ্যে অথবা রাতে ঘরে ঘরে গান যোগে ভাদু পুজো হয়। আমরা মাঝ-সন্ধ্যেতে চড়িদা ফিরেছিলাম। স্থানীয়দের কাছে ভাদু নিয়ে আরেক প্রস্ত সুলুক-সন্ধানের পর বুঝলাম, কার ঘরে পুজো হবে তা নিশ্চিত ভাবে না জানলেও পুজো হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত। অনেকের মতেই তা হবে রাতে।

আজ ভাদ্র সংক্রান্তির রাতে ভাদু জাগরণের কথা, ভোরে ভাদুর বিসর্জন। পূজারী মূলত নারীরাই। গানই তাঁদের মন্ত্র। গানের ভিতর দিয়ে আমরা বুঝে নেব ভাদুকে এমনই সব অভিপ্রায়ে আমরা কান-মন পেতে রইলাম। ঘরে ফিরে একটু ঝাড়-পোঁছ সেরে আবার ফিরে এলাম রাস্তার মোড়ে। গান শুনে আমরা ছুটে যাব গৃহস্থের ঘরে এমনই উদ্দেশ্য।

তখনও দোকানপাট কিছু খোলা। এক ছৌ মুখোশশিল্পীর সঙ্গে তাঁর কাজের মাঝেই আলাপ হল। ভাদু নিয়ে তাঁর কাছে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেলাম না। ইতিমধ্যে সৌরভ রাতের খাবার নিয়ে, বিশেষ করে দোকান খোলা থাকার বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠল। কিছু আগেই ক্যাপ্টেন যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে টাটা হোটেলকে টা-টা জানিয়ে অন্যত্র খাদ্যানুসন্ধানের। ঘন ঘন এই উদ্বেগের দায়িত্ব গ্রহণে নারাজ ক্যাপ্টেনের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। অতএব পরিকল্পিত গন্তব্য ছেড়ে টাটা যাত্রাই ঘটল। অবশ্য সৌরভের আশঙ্কা অমূলক ছিল না। এখানকার রীতি মেনে দোকান তখন বন্ধের মুখে। ক্ষিদে কারুরই ছিল না। অগত্যা খাবার বাঁধাছাঁদা করে ঘরে ফেরাই স্থির হল।

এদিকে ভাদুর পাত্তা নেই। খাওয়া সেরে আরেক দফা চক্কর দিলাম। চারদিকে নৈঃশব্দ নেমে এলেও মানুষজনের দেখা মিলছে। একটু দূরে কয়েকজন মহিলাকে দেখতে পেয়ে ভাদুর কথা জিজ্ঞাসা করা গেল। তাঁরা আমাদের ফিরতি পথের দিকে আঙুল তুলে অদৃশ্য কোনও বাড়ি দেখালেন। সেখানে গিয়েও বিপরীত প্রতিক্রিয়া। এভাবে চতুর্দিক প্রদক্ষিণ সেরে বিফল মনোরথে শয্যা নিলাম। কিন্তু হাল ছাড়লাম না। অ্যালার্ম যোগে ভোর পাঁচটায় উঠে ঘরের বাইরে এলাম।

সূর্যদেবের তন্দ্রা।

সূর্যদেবের তখনও পুরোপুরি ঘুম ভাঙেনি। ভাদু বিসর্জনের এই নাকি আদর্শ সময়। কিন্তু কই! ধীরে ধীরে নরম আলো ঝলমলিয়ে উঠল। ধানের শিষে, শিশিরের বুকে, পাখির পালকে, কিশোরের চোখে তার ওম্। কাছে-দূরে শুরু হয়েছে নতুন পরব জিতার আয়োজন। জমিতে, ঘরের দুয়ারে লাগানো হচ্ছে নিশিন্দার ডাল। স্থানীয় ভাষায় এ-প্রথার নাম ‘ডারি গির‌্যা’। তারই মধ্যে বেজে উঠল ধামসা, সানাইয়ের ধ্বনি। ঘরের উঠোনে মাটির অস্থায়ী বেদিতে আজ স্থাপন করা হবে শাল, আখ, বড়ই ইত্যাদির ডাল। দেবতা জ্ঞানে পূজিত হবেন এঁরাই। এই বৃক্ষদেবতাদের আবাহনে, তাঁদের প্রতিস্থাপনেই এই সঙ্গীতায়োজন। ভাদু, জিতা দুয়ের মধ্যেই নিহিত আছে প্রাচীন কৃষি সংস্কৃতির ধারা। মনে হয়, প্রকৃতির উর্বরা শক্তির জন্য কামনা, সেই শক্তির বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিকতার লক্ষ্যেই এই আয়োজন।

নিকানো উঠোনে জিতার বেদি।

ইতিমধ্যে ঘুম ভেঙেছে দুই বন্ধুর। তারা এসে দাঁড়াল পাশে। উৎসবের এই সমারোহে উপলব্ধি করলাম মাটির গন্ধ, তার প্রাণের স্পন্দন। এ বড় ছোঁয়াচে। ঘরে থাকা দায় হল, আমরা বেরিয়ে এলাম উৎসবমুখর মানুষের মাঝে। তখন আমাদের মনে রমেশ মাহাতোর গাওয়া জিতা গানের রং, ‘কুড়চি ফুল খাঁয়ে ভমর মাতিল রে, ভমর মাতিল রে…’ জিতা, ছাতা পরব এবং মাছকান্দাকে ঘিরে এবার ঘনিয়ে উঠল আমাদের নতুন অভিযানের মহরত।

কভারের ছবি— চেমটা দেখা যাচ্ছে খয়রাবেড়াকিছুটা মাছকান্দাও

ছবি— লেখক ও বন্ধুরা

(সমাপ্ত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *