পাখি
অন্য সফর বিশেষ ভ্রমণ

ইতিউতি হাওড়ার জীবজগৎ— ষষ্ঠ পর্ব

যথা ইচ্ছা তথা যা

বাংলার জীববৈচিত্রে বিস্মিত হচ্ছি আমরা। মুগ্ধও। এত পাখি আমাদের চারপাশে! এত ধরনের প্রাণী! আপনারাও দেখুন।

১। বড় তিত বা রামগাংরা

নিমগাছের ডালে। তিত পাখি।

কী অপূর্ব দেখতে পাখিটা। ক’দিন ধরে ভরদুপুরে লাগাতার ছুটছি কুবো পাখির পিছনে। সে ব্যাটা, বেটিও হতে পারে, আমাকে দেখলেই দুদ্দাড় করে উড়ে পালায়। মন খারাপ হয়। ছুটতে ছুটতে যখন হতাশ ঠিক তখনই বাড়ির সামনে মান্টুদাদের খামারে নিমগাছটার ডাল থেকে একটা পাখির মিষ্টি ডাক ভেসে এসেছিল। নতুন ডাক। গাছের গোড়ায় গিয়ে ইতিউতি তাকাতে চোখে পড়ে, ছোট্ট পাখিটাকে। পালক খুঁটছে। মাঝে মাঝে ডাকছে। চিনতে পারিনি। পাঠানো হল প্রকৃতিপ্রেমী সৌম্য চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি বললেন, এটির নাম Cinereous Tit। বাংলায় নাম খুঁজছিলাম। আমোদি রামগাংরা বা রামগাংরা এরকম কিছু দেখলাম ইন্টারনেটে। ঠিক কিনা জানি না। সেদিন দু’টো পাখি দেখেছিলাম। কর্তা-গিন্নি হবে বোধহয়।

২। মোহনচূড়া

অসাধারণ সৌন্দর্য মোহনচূড়ার।

কুখ্যাত সেই ঝড়ের পরে মোহনচূড়া হুদহুদ হয়ে গিয়েছে। লোকে জেনেও গিয়েছেন, হুদহুদ ইজরায়েলের জাতীয় পাখি। পাখিটাকে সেই ছোটবেলা থেকেই মাঠে মাঝে মাঝে দেখতে পাই। মোবাইল ক্যামেরার প্রথম যুগে এক ছাত্র পাখিটার ছবিও তুলেছিল। সেটি একটি জেলার পত্রিকায় প্রকাশিতও হয়। কিন্তু নাম জানতাম না তখন। ইন্দ্রর ক্যামেরায় কিছুদিন আগে তুলতে পারলাম মোহনচূড়ার ছবি। এই নামটাই কাব্যিক।

৩। কাজল পাখি

কাজল পাখি।

নাকি কসাই পাখি? বিভিন্নজন ফেসবুকে ছবি দেন। তা থেকে মনে হয়েছে। আমার তোলা পাখিটি এই দু’টোই হতে পারে। সম্ভবত দু’টো পাখি একই। যাহা কাজল, তাহাই কসাই। ভুল হলে শুধরে দেবেন। দয়া করে অনলাইন ট্রোল করবেন না পাখি-প্রেমীরা।

৪। বহুরূপী

বহুরূপী

ছোটবেলা থেকেই প্রাণীটিকে সন্দেহের চোখে দেখেছি। সেটা প্রাণীটির সম্পর্কে প্রচলিত নানা গল্পগাছার জন্য। আর ওই রং বদলের জন্য। বড় হয়ে তো বোধোহয় হল, আমরা, মানুষেরা কি কম যাই?

৫। চিল

চিলের ছবিটা ধারাল হয়ে গিয়েছে।

আমার হাতে যে ধরনের ক্যামেরা তাতে উড়ন্ত চিলের ছবি তোলা মুশকিল। একদিনই মাত্র বসে থাকতে দেখেছি। কিন্তু ক্যামেরা তাক করতেই সাঁই করে উড়াল। রোজই ভেসে চক্কর দেয়। কিন্তু ক্যামেরার বাগে আনতে পারি না। একদিন মাঠের দিকে ক্যামেরা নিয়ে গিয়েছি। দেখি, খুব নিচু দিয়ে উড়াল দিচ্ছে। জমির হাত দুয়েক উপরে। তাক করে ‘জয় সেলিম আলি’ বলে সুইচ টিপলাম। কম্পিউটারে ফেলে দেখি, ছবি উঠেছে।

৬। বাঁশপাতি

মক্ষিকাভুক।

এখন পাখিটার বেশ কদর। খবরের কাগজে পাঠকের ছবিতে আলো করে থাকে মক্ষিকাভুক (বি ইটার) পাখিটি। একবার আমাদের গ্রামের বড় রাস্তার ধারে দু’চারটে দেখেছিলাম। একদিন ছবি তুলতে গিয়ে ধান জমির নাড়ায় পা ছড়ে ফিরলাম। ছবি হয়নি। পরে দেখি, বাড়ির আমগাছে আর পাশের বাঁশগাছেও আসে। বেশ কয়েকটি। ঝাপসা, আবছায়া পার করে স্পষ্ট ছবি তোলা গিয়েছে।

৭। ইঁদুর

ট্রাপিজের খেলায় দক্ষ।

কোন প্রজাতির জানি না। তবে বেশ বড়। বাড়ির জামাকাপড় শুকোতে দেওয়া দড়ির উপর দিয়ে ট্রাপিজের খেলা দেখাতে দেখাতে এপার থেকে ওপারে যাচ্ছিল। ছবি তোলা গেল।

৮। ফুটকি

হলুদ বনে দু’টো ফুটকি।

আমাদের গ্রামে এখন বেশ সরষে চাষ হয়। কাছে গেলেই কিচমিচ আওয়াজ শোনা যায়। কিন্তু পাখি দেখা যায় না। কয়েকদিনের চেষ্টায় ছবি তোলা গেল কোনও মতে। যথারীতি চিনি না। ডিগডিগ বা ভোমরা ছোটন বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু সৌম্য চট্টোপাধ্যায় জানালেন, এগুলো plain prinia। বাংলায় ফুটকি। সত্যি ফুটকির মতোই ছোট।

৯। তুলিকা

ঘাস জমির সঙ্গে মেশামেশি তুলিকার।

ওই মাঠে চাষ হয়নি। জমাট ঘাস। দূর থেকে মনে হল, একটা পলিথিন উড়ে গেল। মাঠে প্রচুর পড়ে আছে। মাতালদের সৌজন্যে। কিন্তু দু’বার উড়তে কাছে গেলাম। দেখি, দু’টো পাখি। ঘাসজমিতে মিশে আছে। নাম জানা ছিল না। সৌম্য চট্টোপাধ্যায় জানালেন, এগুলো পিপিট জাতীয় পাখি। যার বাংলা তুলিকা। এ পাখি আগে কোনওদিন দেখিনি। হয়তো দেখতে চাইনি।

১০। শ্যামা

জানলা থেকে তোলা। শ্যামা।

আমাদের বাড়িতে বহুরকম পাখি আসে। সেসবের মধ্যে সাদা বুক মুনিয়া আর কমলাদামাকে দেখে প্রবল উত্তেজিত হয়েছিলাম। কিন্তু দিন পনেরো এই পাখিটাকে দেখেও উত্তেজিত। দারুণ দেখতে। জানলার খুব কাছ থেকে দেখা যায়। ছবি তোলার মতো সময়ও দেয়।

দীপক দাসের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লিখিত

(সমাপ্ত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *