দীপক দাস ঝাঁ ঝাঁ রোদের দুপুর। দু’দিন ধরে যখন তখন মেঘ-বৃষ্টির দাপটে সূর্যদেবের মুখ ম্লান ছিল। আজ সুযোগ পেয়ে সতেজ। চলন্ত-চেনা এক স্টেশনে আমাকে নামিয়ে দিয়ে মেমারি লোকাল গন্তব্যের দিকে চলে গেল। খুব বেশি লোকজন নেই প্ল্যাটফর্মে। স্টেশনটাও যে খুব জনজমাট এলাকায় তা নয়। ব্যান্ডেলের দিকের অংশকে প্ল্যাটফর্মের লেজ ধরলে সে দিকে একটা পাড়া, ছোটখাটো […]
Author: jathatatha
জন্মাষ্টমীর মিষ্টি বা তালের দিনগুলো
দীপক দাস তালের টাল হত বাড়িতে। নিজেদের গাছের নয়। কেতাবি ঢংয়ে বললে, সংগ্রহ করা। চালু কথায়, কুড়োনো। তা নিয়ে গাছমালিকের গোসা যে হত না, তা নয়। তবে তিল থেকে তাল হত না। এত তালে তাল কেটে যাচ্ছে? বেশ সোজাসুজিই বলা যাক। সে ছিল গড়মসির যুগ। তখন সকালে উঠে নিজ নিজ পাঠে মন দেওয়ার পরেও কিছুটা […]
ইছামতীর পারে অ্যানাকোন্ডা সিনেমার জোঁক
দীপশেখর দাস এখন ব্যস্ততার সময়। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর কর্মজীবন শুরুর সন্ধিক্ষণে শুধু ছুটে চলা। সেই ব্যস্ততার রেশেই অনেকদিন বেরনো হয়নি। ‘যথা ইচ্ছা’র কয়েকজন সদস্য প্রায় স্বেচ্ছাবসর নিয়েছে। গার্ডবাবু আর ছোটা ডনের এখন ব্যস্ততার জোয়ার। সেখানে ভাটার দেখা পাওয়া সম্ভব নয় প্রায়। অগত্যা বর্তমান এক বুড়ো, এক আধবুড়ো আর এক শিশু নিয়েই আমাদের ভ্রমণ গ্রুপ […]
সাঁজের আলোয় রবিতীর্থে
সৌগত পাল বীরভূম জেলায় থাকা শুরু হল ২০১৮ সালে। বীরভূম জেলায় না বলে বলা উচিত রামপুরহাট। এখান থেকে কাজের সুবিধা হয়। রামপুরহাট থেকে ট্রেনের ডিউটি পড়ে বর্ধমান, মালদা। বর্ধমানের রাস্তায় আসা যাওয়ার পথে বোলপুর স্টেশন দেখি। এখানেই তো কবির শান্তিনিকেতন। মেসের বন্ধুদের প্রস্তাব দিলে সকলে উৎসাহিত হয়। কিন্তু আমাদের চাকরির সমস্যা একসঙ্গে সবাইকে পাওয়া। দু’জন […]
জেলায় জেলায় জিলিপির জালে
দীপক দাস প্যাঁচালো মানুষ রসাল হয়! হয় না বোধহয়। প্যাঁচের কষে মনের রস কষ হয়ে যায়। জিলিপি প্যাঁচালো। সরু প্যাঁচ মোটা প্যাঁচ। আড়াই প্যাঁচ, সাড়ে তিন প্যাঁচ। সবই রসাল। অত কথার মারপ্যাঁচে না গিয়ে পাঁচমেশালি প্যাঁচের রসাস্বাদন হোক। কত ছোটবেলায় জিলিপি খেয়েছিলাম আর কেমন তার স্বাদ ছিল, ভুলেছি। কিন্তু জিলিপির কথা উঠলেই কচুরির এসে যায়। […]
ব্যবসায় উজ্জ্বল এক বাঙালির স্মৃতি-পথে
দীপক দাস বেরোচ্ছিলাম ‘অমৃতি কুম্ভের সন্ধানে’। রংবেরঙের অমৃতি ভাজা হচ্ছে খিলার এক জায়গায়। অমৃতি একরঙা। সেই ছোট থেকেই দেখে আসছি কমলা। হলদে, সবুজ, গোলাপি, এত রংদার হয় জানা ছিল না। সরেজমিন দেখতে হয় ব্যাপারটা। জায়গাটা হাওড়া জেলাতেই। উদয়নারায়ণপুরের খিলা। পিতৃদেব খিলা শুনিয়াই কহিলেন, ওইখানে নাকি আলামোহন দাশের বাড়ি। আলামোহন দাশকে বহু বছর থেকেই চিনি। কিন্তু […]
রাজধানীর ফুটপাতে কাখরা পিঠার স্বাদ
দীপক দাস কলকাতার ফুটপাতগুলো খাদ্য-সংস্কৃতির মহামিলন ক্ষেত্র। দেশ-বিদেশের খাবার নবকান্তিতে নজর কাড়ে এখানে। আবার জেলারও মিলনস্থল। পাহাড়-রাঢ়-গাঙ্গেয় সব খাদ্য সংস্কৃতি এসে মিলেছে রাজধানীর ফুটপাতে। কলকাতায় কর্মসূত্রে যাতায়াত। কাজের ফাঁকফোকরে মাঝে মাঝে ফুটপাতে ঢুঁ মারার অভ্যাস রয়েছে। বিশিষ্ট ও বরিষ্ঠ সহকর্মী অরণি বন্দ্যোপাধ্যায় দাদা ফুটপাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছিলেন। প্রচুর ঘুরেছেন। খাদ্যরসিক মানুষটির সঙ্গে হাঁটলে নানা জায়গার […]
বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতি ছুঁয়ে
দীপক দাস ইচ্ছে ছিল নেগুয়ায় যাওয়ার। ‘সাহিত্য সম্রাট’এর স্মৃতি বিজড়িত স্থান। নেগুয়া মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর ছিলেন। সমুদ্র তীরবর্তী এই এলাকাবাসের অভিজ্ঞতা ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসে রয়েছে। নেগুয়া মহকুমা এখন আর নেই। কাঁথি মহকুমা হয়েছে। তবে বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতি রয়েছে এখনও। নেগুয়া এখনকার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পড়ে। যাওয়া হয়নি কাঁঠালপাড়াতেও। তবে গিয়েছিলাম হুগলির চুঁচুড়ায়। ২০১৯ সালে। […]
হারানো বৈভব আর হঠাৎ পাওয়া কিছু ঐশ্বর্য
সপ্তপর্ণা ভট্টাচার্য্য অজানা পথ, অচেনা গন্তব্য, অদেখা সহযাত্রী। গতানুগতিক জীবনে যদি হঠাৎ করে এই সমন্বয় এসে উপস্থিত হয় তা হলে তার স্বাদ চেটেপুটে উপভোগ করার যে অনুভূতি তা সারা জীবনের জন্য স্মৃতির খাতায় মূল্যবান সম্পদ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে রয়ে যায়। সে স্বাদই পেয়েছিলাম জোড়া সফরে। গঙ্গাটিকুরি জমিদারবাড়ি দেখেছিলাম প্রথমে। সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম সোনারুন্দি রাজবাড়ির […]
চৈতন্যভোগের বদলে দরবেশ
দীপক দাস বৈষ্ণব সাহিত্যে কৃষ্ণপ্রিয় নানা মিষ্টি ও মিষ্টান্নের উল্লেখ রয়েছে। সাহিত্যের বাইরে বাজারে এবং রাধাবল্লভের সেবার ইতিহাসে খুঁজলে কৃষ্ণের নামে মিষ্টিও মিলবে। যেমন, বর্ধমানের ভাতারে গোপালভোগ বা মুর্শিদাবাদের কান্দির হরিবল্লভ। কিন্তু কৃষ্ণ বা হরির ভক্ত শ্রীচৈতন্যের নামে কোনও মিষ্টির খোঁজ তেমন পাইনি। শুধু একটা মিষ্টি ছাড়া। সে মিষ্টি আবার মেলে হাওড়া জেলাতেই। নামটি তার […]










