দীপক দাস ঘোরাঘুরির তালিকায় ছিল না জায়গাটা। এ রকম অনেকবারই হয়েছে। গিয়েছি একটা জায়গায়। স্থানীয় গাইড, তাঁরা বেশির ভাগ সময়েই আমাদের যান চালক, নিয়ে গিয়েছেন মনোমুগ্ধকর জায়গায়। বেনাপুর সফর কোনও মুগ্ধতার সফর ছিল না। ছিল ডার্ক টুরিজমের। তার বহু আগেই অবশ্য আঁধার পর্যটনে আমাদের সফর-খড়ি হয়ে গিয়েছিল। ভূতুড়ে স্টেশন বলে একসময়ে নাম করা বেগুনকোদর সফরের […]
অন্য সফর
একটি ভূতুড়ে গ্রামে আবার তিন শঙ্কর
দীপক দাস রাত তখন ৩টে। দ্রুত দাঁত মাজছিল শঙ্কর। ট্রেন ধরতে হবে হাওড়া থেকে। অনেক দিন পরে আবার অভিযানের সুযোগ এসেছে। ঠিক তখনই কানে এল শব্দটা… গুড় গুড় গুড়…। একটানা শব্দ। ও কীসের আওয়াজ? বাথরুম থেকে বেরিয়ে বারান্দার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে উঁকি মারে শঙ্কর। কী আশ্চর্য মেঘ ডাকছে! বিদ্যুৎ চমকও দিল। ফাগুন মাসে আগুন লাগার […]
চললাম তবে চাইবাসা— শক্তি স্মৃতি সন্ধানে
দীপক দাস কারণ বোধহয় সেই বালকটি। যে রোরো নদীর ধার থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিল রঙিন বুকের পালক। ওই বালকই অনেক বছর ধরে কানে ‘আসছো কবে? আসছো কবে?’ গুনগুনটা জাগিয়ে রেখেছিল। তার পর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বেরিয়ে পড়া পূজাবকাশে। এ বছর চাইবাসা যাওয়ার প্রস্তাবটা দীপুর ছিল। যদিও প্রস্তাবটা পুরনো। সেই প্রস্তাব ছিল আমারই। নানা কারণে সেই […]
চললাম তবে চাইবাসা— বিরদি পর্ব
দীপক দাস গাড়িচালক সৌভাগ্যে আমরা বরাবর ধন্য। জেনে আসিনি। ট্রেনে লোকের সঙ্গে ভাব জমিয়ে জানতে পারিনি। এমন বহু জায়গা ঘোরা হয়েছে শুধু গাড়িচালকদাদাদের সৌজন্যে। হয়তো বহু পর্যটকদের তাঁরা এমনই সাহায্য করেন। কিন্তু আমাদের মনে হয়, আঁদাড়পআঁদাড়ে ঘুরে বেড়াই বলেই আমাদের ওঁরা খুশি হন। কত দূর থেকে তাঁদের এলাকা দেখতে এসেছি। খুশি হয়ে তাই একটু ভাল […]
বাঙালির হারানো সাম্রাজ্যে সফর— মধুপুর
দীপক দাস ‘কলকাতা থেকে মধুপুরের দূরত্ব…’। ছোটবেলার সেই আতঙ্কের অঙ্ক। ‘অঙ্কে তেরো’ বহু বুরুন বইয়ের সেই ট্রেনকে আঁক কষে মধুপুরে পাঠাতে পারত না। আঁকের গোলমালে ট্রেনের যাত্রীদের যে কী অবস্থা হত! আমাদের কোনও গোলমাল হয়নি। ট্রেন মধুপুরের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু যত সময় যাচ্ছিল আমরাই যেন ট্রেনের কবল থেকে নিজেদের বাঁচাতে চাইছিলাম। শেষপর্যন্ত তো নেমেই পড়েছিলাম […]
কুমোরপাড়ার গল্পস্বল্প— কালো পুতুলের পাড়া
দীপক দাস উপড়ুনি মাটির কথা শুনিনি কখনও। এ মাটি আবার বিক্রি হয়। ৮০ টাকা কিলো। সামসের আলি বিক্রি করছিলেন। ঘাটালের চন্দ্রকোনা থেকে এসেছিলেন মাটি বিক্রি করতে। উপড়ুনি মাটি লাগে কুমোরপাড়ায়। মাটির জিনিসপত্র রোদে শুকিয়ে পুড়িয়ে নেওয়ার আগে এলামাটির প্রলেপ লাগিয়ে নিতে হয়। তার উপরে পড়ে উপড়ুনি মাটির প্রলেপ। তবেই ভাল মতো পুড়ে মাটির জিনিসপত্র লাল […]
কুমোরপাড়ার গল্পস্বল্প— কালো কলসির পাড়া
দীপক দাস খুব সম্ভবত লালুপ্রসাদ যাদব তখন রেলমন্ত্রী। তাঁর রেলমন্ত্রক একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। রেলের প্রতিটি স্টেশনে চায়ের দোকানগুলোয় মাটির ভাঁড়ে চা বিক্রি করতে হবে। এটা ২০০৪ সালের ঘটনা। লালুপ্রসাদ সফল হননি। প্লাস্টিকের কাপেই চা দেওয়া চলত রেলের জায়গার চায়ের স্টলে। স্টেশনে স্টেশনে ‘চা গ্রম’ হেঁকে বেড়ানো চাওয়ালারাও প্লাস্টিকের কাপই ব্যবহার করতেন। লালুপ্রসাদের পরে আবার চেষ্টা […]
কুমোরপাড়ার গল্পস্বল্প— রানিপুতুলের কাহিনি
দীপক দাস পাড়ায় ঢোকার মুখে চোখে পড়ে পণটা। গোলাকার উনুনের মতো। কিন্তু বিশাল। কুমোরপাড়া বোঝা যায় যে কয়েকটা চিহ্ন দিয়ে পণ তার অন্যতম। এতেই কুম্ভকারদের তৈরি মাটির জিনিসপত্র পোড়ানো হয়। পাড়ায় ঢুকতেই পণ দেখতে পেয়ে ভালই লাগল। তার মানে মাটির কাজ হয় এখনও। হাওড়া জেলার কুমোরপাড়াগুলো ঘোরার ইচ্ছে হয়েছিল একবার। সেই সূত্রেই জগৎবল্লভপুর ব্লকের নরেন্দ্রপুরে […]
ইতিউতি হাওড়ার জীবজগৎ— দশম পর্ব
যথা ইচ্ছা তথা যা নানা পাখি দেখা গিয়েছে হাওড়ার বিভিন্ন গ্রামের এদিক সেদিকে। ছবি তোলা হয়েছে টুকটাক। কিন্তু সেসব সাজানো হয়নি। এই সময়ে প্রকৃতি আর মিষ্টি মগ্ন হয়ে পড়েছিলাম আমরা, যথা ইচ্ছা তথা যা’ পরিবারের সদস্যরা। জীবজগতের দিকে তাকানো হয়নি তেমন। আজ আবার হাজির আমরা প্রকৃতির সুন্দর কিছু উপহার নিয়ে। ১। ছোট বসন্তবৌরি দুপুরে হঠাৎ […]
চায়ের দোকানের আত্মীয়স্বজনেরা
কৌশিক কোনার সবে মাত্র মা দুর্গার আরাধনা শেষ হয়েছে। ঢাকের শব্দ এখনও কানের মধ্যে বাজছে। ঠান্ডা এখনও সে ভাবে পড়েনি। তবে হালকা শীতের আমেজ রয়েছে। এমনই এক সন্ধ্যায় প্রকৃতি খামখেয়ালিপনা শুরু করল। সন্ধ্যায় বেশ ভালই বৃষ্টি হল। ঘণ্টাখানেক ধরে বৃষ্টি ঝরেই চলেছে। কখনও একটু কম বা কখনও বেশি। আমি যথানিয়মে দোকান খুলে বসে আছি। বৃষ্টির […]










