ইতিহাস ছুঁয়ে বিশেষ ভ্রমণ

সোনারুন্দি রাজবাড়ি অভিযানে

ফারুক আব্দুল্লাহ

বেশ কয়েক বছর থেকে পরিকল্পনা চলছিল সোনারুন্দি বা বানোয়ারীবাদ রাজবাড়িতে যাওয়ার। কিন্তু সম্ভব হচ্ছিল না কিছুতেই। একমাত্র এই রাজবাড়িতে যাওয়ার জন্য কয়েক বছরে প্রায় ১০-১৫ বার পরিকল্পনা করেও ব্যর্থ হয়েছি। তাই ভেবেছিলাম কোনও পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই একদিন হঠাৎ করেই বেরিয়ে পড়ব।

বন্ধু শুভায়ুর বহুদিন থেকেই বলছিল দেখা করার জন্য। কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু আমাদের কারও সময় হচ্ছিল না নানান ব্যস্ততায়। তাই আমরা ঠিক করেছিলাম ইদের ছুটিতে দেখা করব। কোথাও ঘুরতেও বেরোব। কিন্তু কোথায় যাব তা ভাবা না হলেও আমাদের দু’জনেরই গৌড়ে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। ২০২৩ সালের ২২ এপ্রিল ইদের দিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সোনারুন্দি রাজবাড়ি যাওয়ার। শুভায়ুরের সঙ্গে পরিচয় করানো হয়নি। শুভায়ুরের দু’টো পরিচয় আছে। সে একদিকে রোমান্টিক কবি ও গল্পকার। অন্যদিকে সাংবাদিক, বর্তমানে ‘পুবের কলম’ সংবাদপত্রের সাব-এডিটর হিসেবে কর্মরত।

ঠিক হয়েছিল, ইদের পরের দিন, অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল রবিবার সকালে আমরা প্রথমে বহরমপুরে মিলিত হব। সেখান থেকেই যাত্রা শুরু হবে। আমাদের দু’জনের বাড়ি দুই আলাদা জেলায়। যেহেতু বহরমপুরের খাগড়াঘাট রেলস্টেশন থেকেই সোনারুন্দির উদ্দেশে ট্রেন ধরতে হবে, তাই বহরমপুরই সবচেয়ে সুবিধাজনক মিলনস্থল ছিল।

ইতিহাসের পাশ দিয়ে।

স্থির হয়েছিল, আমরা খাগড়াঘাট স্টেশন থেকে সকাল ৯-১৫ টার আজিমগঞ্জ-কাটোয়া এক্সপ্রেস স্পেশাল ধরব। ১৫ মিনিট আগেই স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমরা ঠিক জানতাম না কী ভাবে সোনারুন্দি যেতে হবে। তবে সালারের তরুণ সম্পাদক প্রিন্স খন্দেকার ভাই জানিয়েছিল সালার থেকে আরও প্রায় ৮-১০ কিমি রাস্তা সোনারুন্দি। আমরা ভেবেছিলাম সালার স্টেশনে নেমে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করে পথ ঠিকই উদ্ধার করে নেব।

ইতিমধ্যেই ট্রেন স্টেশনে ঢুকে গিয়েছে। দেখি পুরো ফাঁকা ট্রেন। যদিও এই লাইনে ট্রেন এমনি ফাঁকা থাকে। তবে আজ যেন একটু বেশি ফাঁকা। হয়তো ইদের পরের দিন বলেই এমন। আমরা কামরায় উঠে বসতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। এই ট্রেন লাইনে আমি অজস্রবার এসেছি। প্রতিবারই মুগ্ধ হই। জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে কখন যে গন্তব্যে পৌঁছে যাই, বোঝার কোনও উপায় থাকে না। এবার সঙ্গে শুভায়ুর ভাই থাকায় ট্রেনে সময়টা আরও ভাল কাটল। দু’জনে খোসগল্প করতে করতেই সালারে পৌঁছে গিয়েছি আমাদের অজান্তেই। সালার খুব পুরনো জায়গা। এখানকার ইতিহাসও খুব সমৃদ্ধ । সালারের মানুষদের অতিথি বৎসল হিসেবে অত্যন্ত সুনাম রয়েছে।

সঙ্গী শুভায়ুর ও লেখক ফারুক আবদুল্লাহ।

স্টেশন থেকে বেরিয়ে আমরা স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করে কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে যাই সালার বাসস্ট্যান্ড। সেখানে খোঁজ করতেই জানা গেল, সোনারুন্দি যাওয়ার বাস এবং টোটো দু’টোই পাওয়া যায়। সালার থেকে সোনারুন্দি প্রায় মিনিট ১৫-২০ পথ। আমরা প্রথমে টোটোতে উঠে বসেছিলাম। কিন্তু গাড়িটি ছাড়তে দেরি করায় টোটোচালক নিজেই একটি বাস দেখিয়ে উঠে যেতে বললেন। দেখি বাসও প্রায় ফাঁকা। আমরা পিছনের দিকের সিটে বসি। পিছনের দিকের সিট বাকিরা পছন্দ না করলেও আমার বরাবর খুব পছন্দের। আবহাওয়া বেশ মনোরম। মনেই হচ্ছে না দু’দিন আগেই ৪৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছিল। বাস চলতেই ফুরফুরে হাওয়া এসে মুখে লাগছিল। রাস্তার দুই পাশে সবুজ মাঠ যা মনকে শান্ত করে দিচ্ছিল। সত্যিই বলতে রাঢ বাংলার রূপ সব সময়ই সুন্দর। বাসের কন্ডাক্টরবাবুকে বলাই ছিল, আমাদের রাজবাড়িতে নামিয়ে দিতে। তিনি জানিয়ে ছিলেন সোনারুন্দি বাসস্ট্যান্ডের পাশেই রাজবাড়ি। তিনি আমাদের বাস থেকে নামিয়ে রাজবাড়ির পথ বলে দিলেন। চলুন রাজবাড়িতে প্রবেশ করার আগে রাজবাড়ির ইতিহাসটা আগে নেওয়া যাক।

সালার, মুর্শিদাবাদ
বৃন্দাবন তৈরি করতে চেয়েছিলেন মনসবদার।

মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমার একদম দক্ষিণ প্রান্তের একটি প্রাচীন গ্রাম সোনারুন্দি। কাটোয়া-আজিমগঞ্জ লাইনে সালার স্টেশনে নেমে ১০ কিমি পশ্চিমে গেলেই চোখে পড়বে সোনারুন্দি রাজবাড়ি চত্বর।

বনোয়ারিবাদ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নিত্যানন্দ দালাল। নিত্যানন্দের বাবা জগমোহন সোনারুন্দি গ্রামে বাস করতেন। ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে সোনারুন্দিতেই নিত্যানন্দের জন্ম হয়। অল্প বয়সেই তিনি আরবি ও  ফারসি ভাষায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। একসময় বাদশাহ শাহ আলমের সুনজর পড়ে নিত্যানন্দের উপরে। নিত্যানন্দের পাণ্ডিত্য় দেখে বাদশাহ তাঁকে রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে মুন্সি পদে নিযুক্ত করে দানেশবন্দ উপাধি দেন। পরবর্তীতে বাদশাহ শাহ আলম তাঁকে মহারাজা উপাধি দিয়ে সাত হাজারি মনসবদার পদে নিয়োগ করেন। তখন নিত্যানন্দের নাম হয় মহারাজা নিত্যানন্দ দানেশবন্দ আমীর উল-মুলক, আজমাতউদ্দৌলা, সফদার জং।

সোনারুন্দি, সালার
ধ্বংসাবশেষে প্রমাণ এককালের বৈভবের।

মহারাজ নিত্যানন্দ বাহাদুর সোনারুন্দি গ্রামের পূর্ব প্রান্তে প্রায় ৫৪ বিঘা জমির উপর রাজবাড়ি ও মন্দির তৈরি করেছিলেন। সেই সময় সোনারুন্দি ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম নিয়ে তাঁর জমিদারি এলাকা ছিল প্রায় ৪০০০ বিঘা। সোনারুন্দি রাজবাড়ির চার দিকে উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল। চারদিকে চারটে বিশাল আকারের রাজকীয় তোরণ ছিল। বিশাল চত্বরের তিন দিকে ছিল দোতলা দালান। উত্তর দিকে বনোয়ারীজীর প্রকাণ্ড মন্দির। মন্দিরে বংশীধারী বনোয়ারীজী (‘বনমালী’) ও শ্রীরাধিকার মূর্তি রয়েছে। মন্দিরের বাইরের দোতলা অংশটিতে মোগল স্থাপত্যের প্রভাব দেখা যায়। বেলে পাথরের খিলান ও জাফরিগুলি যেন দিল্লি-আগ্রার কথা মনে করিয়ে দেয়। মন্দিরের পাশেই পুকুর কেটে তার ঘাটে স্নানাগার ও গোপেশ্বর শিবের মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল।

সোনারুন্দি, সালার।
দেখা হয়েছিল এঁদের সঙ্গে।

রাজবাড়ির বাইরে বৃন্দাবনের অনুকরণে কুঞ্জ নির্মাণ করা হয়েছিল। এগুলিকে ‘বন’ নামে অভিহিত করা হত। বৃন্দাবনের মতোই ৮৪টি বন বনোয়ারীবাদে স্থাপন করা হয়েছিল। যাতে রাস বা ঝুলন উৎসবের সময় বনোয়ারীলালজি যেতে পারেন। প্রত্যেক বনে একটি করে পুকুর ও মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। মহরাজা নিত্যানন্দ সোনারুন্দিকে দ্বিতীয় বৃন্দাবন হিসেবে নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। বনোয়ারীজীর নাম থেকে সোনারুন্দির এই অংশের নাম হয় বনোয়ারীবাদ।

গ্রামের প্রধান রাস্তার পশ্চিমদিকে একটি দোতলা তোরণের পর বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রাজবাড়ির নানা মহলের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। কথিত, এক সময় মূল প্রাসাদে প্রায় ১০০টির বেশি ঘর ছিল। দাস-দাসিদের থাকার জন্য পৃথক মহলও ছিল। রাজবাড়ি এবং রাজবংশের এখন আর সে অবস্থা নেই। সবই প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

সোনারুন্দি, সালার।
মন্দিরের ভিতরের অংশ।

আমরা বাসস্ট্যান্ডে নেমে এদিক ওদিক তাকাতেই চোখ পড়ে রাজবাড়িতে প্রবেশের লাল ইটে তৈরি প্রধান তোরণের দিকে। তোরণটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লেও তার স্থাপত্য কৌশলই জানান দিচ্ছিল অতীত গৌরবের কথা। আমরা সেই তোরণের সামনে অবাক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি। তার পর কিছু ছবি তুলে রাজবাড়ির মূল এলাকায় প্রবেশ করি। ভেতরে দেখি বিরাট এলাকা। তার মধ্যে রয়েছে দু’টি স্কুল। সরস্বতী শিশু মন্দির এবং বনোয়ারীবাদ মহারাজ উচ্চ বিদ্যালয়। রয়েছে সানন্দ ধাম অনাথ আশ্রম। এগুলোও এক সময় রাজবাড়িরই অংশ ছিল বলেই মনে হয়।

ভেতরে জঙ্গলের মধ্যে রাজবাড়ির আরও কিছু ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। বাইরে থেকেই সেগুলোর ছবি তুললাম। কিছুটা এগোতেই রয়েছে আরও একটি তোরণ। এই তোরণটিও বিরাট আকারের। এটি পার করলেই শুরু হবে রাজবাড়ির মন্দির। খুব অবাক হতে হল যে রাজবাড়ির মূল প্রবেশদ্বারের মতো মন্দির চত্বরে প্রবেশের জন্যও একটি রাজকীয় তোরণ রয়েছে। রাজবাড়িতে এগুলো ছাড়াও নাকি আরও দু’টি তোরণ ছিল। এখন কোনও অস্তিত্ব নেই।

বনোয়ারী মন্দিরের কারুকাজ।

আমরা এবার মন্দিরে প্রবেশের সেই তোরণের মুখে দাঁড়িয়ে ভাল করে পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তুললাম। এর পর মন্দির এলাকায় ঢোকা। সেখানে আরও কিছু স্থাপত্যর দেখা মেলে। মূল মন্দির স্থাপত্যের সামনে রয়েছে একটি খোলা চত্বর। যার শেষ প্রান্তে রয়েছে গোপেশ্বর শিবমন্দির। মন্দিরের একেবারে পাশেই রয়েছে একটি বড় পুকুর। যেখানে রয়েছে বড় বড় আকারের রুই, কাতলা, মৃগেল মাছ। তবে প্রথম থেকেই এই মাছ ধরা নিষিদ্ধ। কথিত রয়েছে এই পুকুরের মাছ চুরি করতে গিয়ে অনেকেই নাকি রক্তবমি করে মৃত্যুবরণ করেছে। আমরা পুকুরটি ভাল করে দেখে নিয়ে এবার মূল মন্দির দেখার উদ্দেশ্যে এগিয়ে চললাম মন্দিরের সামনে। কিছুটা যেতেই চোখে পড়ল মুঘল শৈলীতে নির্মিত মন্দিরের বাইরের দিকের কারুকার্য খচিত দেওয়াল।

দেখি মন্দিরে প্রবেশের একটি দরজা খোলা রয়েছে। আমরা সেই দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দেখি সেটি একটি ঘর। ঘরের মধ্যে দিয়ে মন্দিরে প্রবেশের রাস্তা রয়েছে। ঘরে ঢুকতে প্রথমেই নজর পড়ে একজন প্রবীণ ব্যক্তির দিকে। যিনি একটি পুরনো লোহার সিন্দুকে বসে আছেন। ঘরে আরও কয়েকজন রয়েছেন। আমি সিন্দুকে বসা সেই প্রবীণ ভদ্রলোকটির কাছে জানতে চাইলাম মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করা যাবে কিনা সেই বিষয়ে। তিনি সেই ঘরেই উপস্থিত আরও একজন প্রবীণকে দেখিয়ে বললেন, তিনি এই মন্দিরের ঠাকুরমশাই। মন্দিরে প্রবেশের বিষয়ে আমি যেন তাঁর সঙ্গে কথা বলি।

সোনারুন্দি
মন্দিরের ভিতরের জলাশয়ে মাছ। নানা জনশ্রুতি রয়েছে মাছ নিয়ে।

আমি ঠাকুরমশাইয়ের কাছে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি আমাদের অপেক্ষা করতে বলে ভেতরের একটি ঘরে কারও কাছে অনুমতি নিতে গেলেন। আমরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেই দেখি তিনি সেই ঘর থেকে বেরিয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে জানালেন যে ‘‘মন্দিরের ভেতরে যান। তবে সাবধান! একদম ছবি তোলা যাবে না।’’ ভদ্রলোকের কথায় আমরাও বেশ খুশি হলাম। এতদূর থেকে এসে রাজবাড়ির সব কিছু না দেখে ফিরে যেতে হলে খুব কষ্ট হত।

কারুকার্য খচিত দোতলা মন্দির স্থাপত্য দেখে মুগ্ধ হলাম। চারদিকে দালান, মাঝে নাটমন্দির। পুরোহিতমশাই জানালেন, নাটমন্দিরে এখন কীর্তন গাওয়া হয়। মন্দিরের যেখানে বিগ্রহ রয়েছে তার ঠিক সামনের বারান্দায় একটি বড় জলাধার রয়েছে। ঠিক যেমন পুরনো দিনের মসজিদগুলিতে ওযু করার জলাধার থাকে, তেমনই। চারদিক ঘুরে দেখতে গিয়ে হঠাৎ দৃষ্টি যায় মন্দিরে ভেতরে পড়ে থাকা দু’টি কামানের উপর। এক সময় কামানগুলোর গুরুত্ব থাকলেও সেগুলি এখন বহু স্মৃতি বুকে চেপে অবহেলায় পড়ে রয়েছে।

ইতিহাস ফিসফিস কথা কয়।

রাজবাড়ি থেকে বেরনোর সময় খুব আফশোস হচ্ছিল যে, কেন বছর খানেক আগে এলাম না! এখানে, আসলে রাজবাড়ির রানিমা কল্যাণীসাহেবার সঙ্গে আমার আলাপ ছিল। রানিমার সঙ্গে আমার বহুবার ফোনে কথাও হয়েছে রাজবাড়ির নানান বিষয় নিয়ে। তিনি রাজবাড়িতে আমাকে ডেকেছিলেনও। দুর্ভাগ্য আমার আসতে বড্ড দেরি হয়ে গেল। রানিমা গত বছরই (২০২২) না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন।

এবার আমাদের বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু মন যেন তাতে তেমন সায় দিচ্ছে না। তবুও আমাদের ফিরতেই হবে। মন্দির থেকে বেরিয়ে বেশ কিছুটা হেঁটে রাজবাড়ির মূল তোরণ পার করে আমরা সোনারুন্দি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছই। তখন সালার যাওয়ার কোনও বাস নেই। আমাদের অবশ্য বাসে যাওয়ার ইচ্ছেও তেমন ছিল না। আমাদের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল একটা টোটো। আমরা বসতেই প্রাচীন জনপদকে পিছনে ফেলে টোটো চলতে শুরু করে সালার স্টেশনের দিকে।

কালের অমোঘ নিয়মের বলি।

সূর্য তখন মাথার ঠিক উপরেই। তবু সে দিন তাপমাত্রা ছিল বেশ সহনীয়। রাস্তার দু’পাশে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর। সেখান থেকে উড়ে আসা ফুরফুরে হাওয়ায় আমাদের সমস্ত ক্লান্তি যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছিল।

ছবি- লেখক

(সমাপ্ত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *