নবাবি খানা।
খাদ্য সফর বিশেষ ভ্রমণ

নবাবি কেল্লায় নবাবি খানার স্বাদ সন্ধানে

সপ্তপর্ণা ভট্টাচার্য্য

মাস দেড়েক আগে একদিন বিকেলে বন্ধু ফারুকের ফোন এল। জিজ্ঞেস করল, ‘‘ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ীকে চিনিস? ফুডকা নামে ইউটিউব চ্যানেল আছে।’’ বললাম, ‘‘হ্যাঁ চিনি।’’ ওই মুহূর্তের “হ্যাঁ চিনি” বলাটাতেই হয়তো চিনির মতোই মিষ্টি একটা যোগসূত্রে বেঁধে গেলাম ইন্দ্রজিৎদার সঙ্গে। সেই প্রথম আলাপ। কিন্তু সম্বোধনটা ইন্দ্রজিৎদা বলেই লিখলাম। কারণটা পরে বলছি। জানতে পারলাম, উনি একটা ‘ফুড ইভেন্ট’ করতে আগ্রহী মুর্শিদাবাদের খাওয়াদাওয়া নিয়ে। সাধারণ নয়, মুর্শিদাবাদের নবাবি ও শেহেরওয়ালিদের খাবার নিয়ে। ফুডকার এই সফরে আমার কোনও দিক থেকেই জড়িয়ে থাকার কথা ছিল না। অদ্ভুত ভাবে সুযোগ এল। আর আমিও ওই দু’দিনের সমস্ত ঘটনা প্রবাহের চাক্ষুষ অংশগ্রহণকারী হয়ে থেকে গেলাম। অদ্ভুত সুন্দর অভিজ্ঞতা যা সারা জীবনের সুন্দর স্মৃতি হয়ে থেকে গেল। মনে হল, সেই অভিজ্ঞতাটা সকলের সঙ্গে ভাগ না করে নিলে সব কিছুই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

নবাবি শাহি টুকরা।

পরিচিতি পর্ব

আসলে শুরুটা একদম শুরু থেকে করাই ভাল। ফুডকার শুরু ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ীর হাত ধরে। কলকাতার রাস্তার খাবার অনুসন্ধানের যাত্রা শুরু। তখন থেকেই ফুডকা ও ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ী নাম দু’টোর সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলাম। ভদ্রলোকের সাবলীল বাচনভঙ্গি, সংক্ষিপ্ত অথচ সহজ ভাবে খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস অথবা কিছু বিশেষ কথা বর্ণনা করা, যে কোনও খাবারের সঠিক স্বাদের অভিব্যক্তি, এগুলো খুব সহজেই দর্শক মনে জায়গা করে নেয়। যার ফলে ফুডকা চ্যানেলটি অতি অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মুর্শিদাবাদের ‘ফুড ইভেন্ট’টা ১২ ও ১৩ নভেম্বর হয়েছিল। প্রথম দিন ছিল মুর্শিদাবাদের নবাবি আমলের খাওয়াদাওয়া নিয়ে। দ্বিতীয় দিন ছিল শেহেরওয়ালিদের খাওয়াদাওয়া নিয়ে।

শাম্মীর ভাই। যিনি আন্তরিক সাহায্য করেছিলেন।

প্রথম দিনের প্রস্তুতি পর্ব

মুর্শিদাবাদ নিয়ে বা বলা ভাল মুর্শিদাবাদের খাবারদাবার নিয়ে, বিশেষ করে নবাবি খাবারদাবার নিয়ে সে রকম ভাবে কিছু তথ্য পাওয়া যায় না। আমার বন্ধু ফারুক আবদুল্লাহের ‘মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের কথা’ বইটিতে অনেক খাবারের সন্ধান পাওয়া যায়। ফারুক ইন্দ্রজিৎদার পূর্ব পরিচিত। ইন্দ্রজিৎদার কথায়, ফারুকের এই বই ছাড়া মুর্শিদাবাদের খাবার সংক্রান্ত তথ্য উনি অন্য কোনও বই বা ইন্টারনেটে সে ভাবে খুঁজে পাননি। সেই জন্যই ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ। ফারুক পুরো বিষয় শাম্মীর ভাইকে জানালে তিনি অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ভাবে করার সমস্ত দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ কাঁধে তুলে নেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য একটি দল তৈরি করেন।

শিক কাবার। নবাবি কায়দায়।

শাম্মীর ভাই ভীষণ দায়িত্ববান। মুর্শিদাবাদ শহরের বিশিষ্টজন। নবাব পরিবারের সঙ্গেও ওঁর খুব ভাল সম্পর্ক। শাম্মীর ভাই নবাব পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কারণ নবাব পরিবারের মানুষ ছাড়া নবাবি খাবারের অনুষ্ঠান অসম্পূর্ণ। শাম্মীর ভাই ও তাঁর দল নবাব পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের সঙ্গে পদ ঠিক করার আলাপ আলোচনা শুরু করেন। খাবারে নবাবিয়ানা থাকতে হবে তো! অনেক আলাপ আলোচনার পর খাবারের পদ চূড়ান্ত হয়। কয়েকটি খাবারের রেসিপি ফারুকের বই ‘দস্তরখওয়ান এ মুর্শিদাবাদ’ থেকে নেওয়া হয়। মেনু তো ফাইনাল হল। কিন্তু সব খাবার তৈরি হবে কোথায় এবং করবে কে বা কারা? ঠিকঠাক বানাতে না পারলে তো খাবারের মান থাকবে না! আবার আলোচনায় বসা হল। অনেক চিন্তা ভাবনার পর হোটেল প্যালেস ভিউকে প্রস্তাব জানানো হল। হোটেল মালিক অমিতবাবু অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে  প্রস্তাব গ্রহণ করলেন।

বুরহানি। পরিবেশনে খাবারের স্বাদ বাড়ে। পাত্রটিও নবাবি।

অন্যদিকে ইন্দ্রজিৎবাবুর নবাবি খাবারের অনুষ্ঠান যাতে আরও বিশুদ্ধ হয় সেই জন্য শাম্মীর ভাই নবাব পরিবারের একাধিক সদস্যদের কাছ থেকে নবাবদের ব্যবহৃত বাসনপত্র সংগ্রহ করে এনেছিলেন।

আমি মোটামুটি এই অব্দি ঘটনা সম্পর্কে অবগত ছিলাম। হঠাৎ করে নির্দিষ্ট দিনের দু’দিন আগে ফারুক ফরমান জারি করল, ওর অতিথি হিসেবে সুব্রতদাকে (লালবাগ কলেজের ভূগোলের অধ্যাপক) আর আমাকে যেতে হবে। রাজিও হয়ে গেলাম। তার দু’টো কারণ, এক তো এ রকম একটা জনপ্রিয় চ্যানেলের কাজকর্ম কী ভাবে হয় সেটা সরাসরি দেখার সুযোগ আর দ্বিতীয়ত একটা নির্ভেজাল আড্ডা। যেখানে নিজেদের কিছু করতে হবে না, শুধু গল্প আড্ডা আর শুটিং দেখা। অবশ্য কিছু করতে হবে না ব্যাপার কী দাঁড়িয়েছিল সেটা ক্রমশ প্রকাশ্য।

নবাবি খানার আরও একটি। এটি হল জর্দা।

প্রথম দিনের আকর্ষণ

আমাদের বলা হয়েছিল, ফুডকার সঙ্গে যাত্রা ওই দিন সকালবেলা হোটেল প্যালেস ভিউয়ের প্রাতরাশ টেবিল থেকেই শুরু হবে। ফারুক আর সুব্রতদা হোটেলের সামনে আমার জন্য অপেক্ষা করবে সকাল ৮:৩০ নাগাদ। পৌঁছে দেখি ওরা দু’জন এসে গিয়েছে। তবে বেশিক্ষণ ওদের অপেক্ষা করাইনি। তিনজনে সোজা ব্রেকফাস্টের জায়গায় চলে এলাম। ইন্দ্রজিৎদা, অমিতবাবু, সমর্পিতা প্রাতরাশ সারছেন। আমরা কুশল বিনিময় করলাম। ফারুক আমাকে আর সুব্রতদাকে ইন্দ্রজিৎদার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল। সাদা ধোপদুরস্ত পাঞ্জাবি পাজামা পরা ভদ্রলোককে দেখে মনে হল, নবাবি মেজাজ কোনও অংশে কম নেই ওঁর মধ্যেও।

খাবার টেবিলে ছোটে নবাব (মাঝে)।

আমরা তিনজন টেবিলে বসলাম। প্রাতরাশের সঙ্গে ফুডকার আয়োজনের কোনও রকম সংযোগ ছিল না। স্যান্ডউইচ, টক দই (ফারুক মেয়োনিজ ভেবে খুশি হয়ে গিয়েছিল), পুরি-সবজি, ভেজ কাটলেট, পোহা, ফ্রুট সালাদ, গুলাব জামুন, আর চা। সুব্রতদা কড়া ডায়েটিংয়ে ছিল বলে প্লেট মোটামুটি ফাঁকা ছিল। ফুড ইভেন্টে এসে খাবার না খাওয়াটা বড্ড অদ্ভুত। তাই শেষ পাতে জোর করে দাদাকে অর্ধেক মিষ্টি খাইয়েছিলাম।

আনারসের পোলাও।

ফারুক আর আমি ঠিক করে খাবারখাওয়া সারতে সারতে দেখলাম ওঁদেরও প্রাতরাশ সারা। ইন্দ্রজিৎদার ফুডকার দলে আরও তিনজন সদস্য ছিলেন যাঁদের সঙ্গে পরে আলাপ হয়েছিল। হোটেলের রিসেপশনের সামনে এসে গ্রুপ ফটো তোলা হলো। এর পরে যাত্রা কেল্লা নিজামত চত্বরের দিকে। কয়েকজন গাড়িতে, কয়েকজন টোটো করে নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে পৌঁছলাম। নিজামত চত্বরে পৌঁছে প্রথম ঠিক করা হল লোকেশন। নবাবি খানার শ্যুটিংয়ে লোকেশনও তো অভিজাত হওয়া চাই। ইন্দ্রজিৎদা ফারুককে সেই দায়িত্ব দিলেন। ফারুক পুরো দলের সঙ্গে কথা বলে তিন চারটে স্পট ঠিক করল।

নবাবি আমলের এক রুটি।

প্রথম লোকেশন ছিল হওয়ামহল, যেটা ওয়াসিফ মঞ্জিলের একদম সামনে। ওখানে ফারুক নবাবি খাবার সম্পর্কে প্রচুর অভিজ্ঞতা এবং তথ্য তুলে ধরল। ফারুক খুব ভাল বক্তা। তাই ক্যামেরার সামনে ও খুব সাবলীল। এখানে ইন্দ্রজিৎদার পেশাদারি রূপ প্রথম চোখে পড়ল। কী ভাল ‘টাইম ম্যানেজ’ করার দক্ষতা। চোখ জহুরির মতো। আসল কাজটা বেছে তুলে নিচ্ছিলেন প্রতিটা শটে।

ছানাবড়া। মুর্শিদাবাদের খাদ্য সংস্কৃতির অন্যতম পরিচয়।

ফারুকের যখন শুটিং চলছে, আমি আর সুব্রতদা তখন আড্ডা দিতে ব্যস্ত। তখনও জানি না কী বিড়ম্বনা আসতে চলেছে। প্রথম শট শেষ হওয়ার পর ইন্দ্রজিৎদা বললেন, সুব্রতদা আর আমাকেও কিছু বলতে হবে। কোনও দিন ক্যামেরার সামনে এ ভাবে আসিনি। আমি তো কিছুতেই কিছু বলব না ভেবে নিয়েছি। অনেক বার অনুরোধ করার পরেও ইন্দ্রজিৎদার কাছে আমার অনুনয় ধোপে টিকল না। বুঝে গেলাম আমাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতেই হবে। ফারুক দেখলাম, খুব মজা পেয়েছে। ও তার মধ্যেই বিষয় তৈরি করে আমাকে ফোনে পাঠিয়ে দিয়েছে। শুধু তো মুখস্থ করা নয়, ক্যামেরার সামনে না দেখে ঠিক করে উপস্থাপনও তো করতে হবে!

ঝুড়ির দই। মুর্শিদাবাদের আরেক পরিচয়।

এতক্ষণ তো আমি আমাকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। সুব্রতদার দিকে তাকিয়ে দেখি, তার অবস্থাও ঠিক আমারই মতো। চোখে মুখে ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা’। সুব্রতদা কী বলবে মনে মনে তৈরি করতে থাকল আর আমি মুখস্থ করতে থাকলাম। সময় পেলাম হওয়ামহল থেকে আমিরমহল পর্যন্ত হাঁটা রাস্তাটুকু। আমাদের সঙ্গে ছিলেন ইন্দ্রজিৎদা, দাদার দলের একজন আর ছোটে নবাব। অন্য দিকে ইন্দ্রজিৎদা আর দু’জন সদস্যকে নিয়ে সমর্পিতা এবং বাকি লোকজন হিরাঝিলের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। ভাগাভাগি করে যেতে হল, না হলে একদিনে সব কিছু সম্পূর্ণ করা মুশকিল হত।

আমরা আমিরমহল পৌঁছলাম। মহলের নীচে দাঁড়িয়ে ছোটে নবাবের অভিজ্ঞতা ক্যামেরাবন্দি করল ফুডকা দল। মহলের উপরে এসে প্রথমে সুব্রতদাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হল। দাদা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কলার মাইক নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াল। কিন্তু দাদা থাকবে আর একটু হাস্যরস থাকবে না এটা তো হতেই পারে না। ইন্দ্রজিৎদা ওই চরম মুহূর্তে দাদার বিষয় বদলে দিলেন। দাদার অবস্থা তখন ‘বাংলা পড়ে এসে পরীক্ষা হলে ঢুকে জানতে পারা যে সেদিন অঙ্ক পরীক্ষা’। কিন্তু সুব্রতদা ঘাবড়ে যাওয়ার মানুষই নয়। মুহূর্তেই অত্যন্ত সাবলীল ভাবে নিজের কথা তুলে ধরলেন। এক শটেই ওকে।

সুব্রতদা আর ফারুকের সঙ্গে।

এর পর আমার পালা। ভেতরে ভেতরে কাঁপছি। সেই মুহূর্তে ওই পেশাদার মানুষটার অন্য এক রূপ দেখলাম। ভীষণ আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলে প্রথমে আমাকে সহজ করে দিলেন। এই সময়ই উনি আমাকে বলেছিলেন, আমি ওঁকে যেন ইন্দ্রজিৎদা বলে ডাকি। তার পর নিজে ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে গল্পের ছলে কথা বলিয়ে নিলেন। কখন যে নিজের বক্তব্যটুকু বলে শেষ করে ফেললাম বুঝতেও পারলাম না। শেষে উনি নিজে এসে ক্যামেরায় দেখালেন কেমন ভাবে বলেছি। খুব প্রশংসা করলেন। উনি বার বার প্রত্যেকের খুব প্রশংসা করলেন। কারণ সকলে একবারেই সুন্দর করে নিজেদের বক্তব্য ক্যামেরার সামনে রেখেছেন। ফুডকা টিমকে বার বার শুট করতে হয়নি।

শামি কাবাব। এটিও নবাবি আমলের রন্ধন প্রাণালীতে তৈরি।

আমিরমহল থেকে আমরা এলাম ছোটে নবাবের বাড়ি। ছোটে নবাব নিজের হাতে আমাদের চা খাওয়ালেন। তারপর নবাবি আমলের বেশ কিছু জিনিস বার করে আনলেন দেখাবার জন্য। তার মধ্যে তরোয়াল নিয়ে ইন্দ্রজিৎদার পোজ দিয়ে ফটো তোলা সত্যিই অসাধারণ ছিল। কোনও অংশে নবাবের থেকে কম মনে হচ্ছিল না। আমরা সকলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। কারণ হিরাঝিল টিম তখনও ফেরেনি। একদিক থেকে ভালই হল। একজন পেশাদার মানুষের পিছনে যে এত আন্তরিক, স্বতঃস্ফূর্ত, খোশমেজাজ মানুষ থাকতে পারেন ওই সময়টা জুড়ে ইন্দ্রজিৎদার সঙ্গে গল্প না করলে জানতেই পারতাম না।

হিরাঝিল টিম ফিরে এলে আমরা মধ্যাহ্নভোজের জায়গায় গেলাম। সিরাজ উদ্যানে। সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল জায়গাটা। প্যালেস ভিউ হোটেল থেকে পূর্বনির্ধারিত পদ অনুযায়ী সমস্ত খবর এনে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে টেবিলে পরিবেশন করা হল। মেনুতে ছিল স্যালাড, শিককাবাব, রেশমি কাবাব, মাহি পোলাও, আনারস পোলাও, জারদা, লওকি কা হালওয়া, শাহি টুকরা, পরোটা, ছানাবড়া, ঝুড়ি দই, বুরহানি। প্রতিটি খাবারই দারুণ ভাবে পরিবেশন করা হয়েছিল। সব খাবারের স্বাদই ছিলো অনবদ্য। সব থেকে ভাল লেগেছিল আনারস পোলাও, মাহি পোলাও, লওকি কা হালওয়া। সব খাবারের ভিডিয়োগ্রাফি করা হল ভীষণ সুন্দর করে।

আমাদের হাতে নবাবি খানা খাজানা।

এরই মধ্যে উপস্থিত হলেন আমাদের চেয়ারম্যান ইন্দ্রজিৎ ধরবাবু। ওঁকে অভ্যর্থনা জানানো হল। সকলে খাবার টেবিলে বসলেন। ইন্দ্রজিৎদা স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে প্রতিটি খাবারের সম্পর্কে বক্তব্য ও অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুললেন ক্যামেরার সামনে। তাঁর পুরো দল সেই সব কিছু ক্যামেরা বন্দি করে নিল। আর এ সমস্ত কিছুর সাক্ষী থেকে গেলাম আমরা। ভাগীরথীর হাওয়া খেতে খেতে গল্প করতে করতে সমস্ত রেকর্ডিং দেখলাম।

দাদার খাওয়া হয়ে যেতেই উনি আমাদের খেয়ে নিতে বললেন। সত্যি বলতে খেতে খুব একটা ইচ্ছে ছিল না, বাড়ি ফেরার তাড়া ছিল। তবে পুরো দিন একসঙ্গে কাটিয়ে পরিশেষে ইন্দ্রজিৎদার কথা ফেলে বেরিয়ে আসার স্পর্ধা দেখানো সম্ভব ছিল না। আমরা একটু একটু করে সব কিছু টেস্ট করলাম। দাদারও ফেরার সময় হয়ে এসেছিল। তখন সুব্রতদা, ফারুক আর আমি খাচ্ছি। দাদা আমাদের কাছে নিজে এসে দু’মিনিট কথা বলে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন। সেই মুহূর্তটায় আমরা তিনজনই ভীষণ আপ্লুত হয়ে গেলাম। মনে হল, সারাটা দিন একসঙ্গে কাটিয়ে বিদায় বেলাতেও ইন্দ্রজিৎদা আন্তরিক পরশটুকু ছুঁইয়ে দিয়ে গেলেন। সারাদিন ভীষণ ভীষণ ভাল একটা দিন কাটিয়ে বিদায় সময়টুকুও যেন ভাললাগায় ভরে উঠল।

বিদায় পর্ব

খাবার শেষ করে  বাকি সবাইকে বিদায় জানিয়ে আমরা তিনজন টোটো করে হোটেলের নীচে এলাম। সুব্রতদার স্কুটি ওখানে রাখা ছিল। আমি ওই একই টোটো তে বাড়ি ফিরে এলাম। আর ওরাও বাড়ির দিকে রওনা দিল।

কী ভাবছেন, সকলে যে যার বাড়ি ফিরে এল? একদমই না। বহরমপুর প্রায় পৌঁছে সুব্রতদা বুঝতে পেরেছিল হোটেলে ব্যাগ ফেলে এসেছে। আবার দু’জনে হোটেলে ফিরে ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফিরেছিল।

এবার আমার পরিচয় দেওয়া যাক। আমি হলাম গিয়ে সেরকম কেও ই না। শুধু দুর্দান্ত এক খানা অভিজ্ঞতার অংশীদার হতে পেরেছিলাম বলে সমস্ত অভিজ্ঞতা টুকু সবাইকার সাথে ভাগ করে নিলাম।

ছবি— লেখিকা

(সমাপ্ত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *