দীপক দাস ডোমজুড়— রাজপাট হারানো এক স্টেশন ‘কাল ছিল ডাল খালি আজ ফুলে যায় ভরে’। রবি কবির আশাবাদী ছড়া। কিন্তু স্টেশনের ইতিহাসে ছড়াটা পুরো উল্টো। ‘কাল ছিল যাত্রী ভরা, আজ সবাই যায় চলে’। দক্ষিণ-পূ্র্ব রেলের হাওড়া-আমতা রুটের স্টেশন ডোমজুড়। কী ভাবে একটা স্টেশন গুরুত্ব হারিয়ে প্রায় পরিত্যক্ত, নির্জন হয়ে যায়, তার বড় উদাহরণ। রেল রুটের […]
অন্য সফর
কেঁদতল-কুসুমতল-ঝিলিমিলি— শেষ পর্ব
দীপক দাস আমরা যে বাসে ঝিলিমিলি চলেছি তার নাম ‘নীলকণ্ঠ’। বাস ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় কন্ডাক্টর রোহিণীদার আর তেমন কাজ ছিল না। মাঝে এক রসিক ছোকরার লোক হাসানোর চেষ্টার ঠেলায় অস্থির হয়ে উঠেছিলাম। রসিক মানে রসবোধওলা নয়। পানরসিক। পুজোর সময়ে যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ি। সেই খুশিতেই চড়িয়েছে দু’পাত্তর। বা দুই পলিথিন। কী টেনেছে সেটা তো আর জিজ্ঞাসা করা […]
কেঁদতল-কুসুমতল-ঝিলিমিলি
দীপক দাস অটো থেকে নেমে ঝিলিমিলি যাওয়ার বাস পেয়ে গেলাম। শুনতে চামচ থেকে সসপ্যানে মাখনের টুকরো পড়ে হড়কানোর মতো মসৃণ মনে হল তো? কিন্তু এবারের সফর মোটেও সহজ ছিল না। পদে পদে বাধা। বৈষ্ণব পদাবলীতে রাধার অভিসারের যাওয়ার পথের থেকেও সঙ্কটময়। একেবারেই চলইতে শঙ্কিল পঙ্কিল বাট’। এবারের পুজোর সফরে দল ভারী হবে মনে করা হচ্ছিল। […]
অভিমানী নদী গুমানী, স্টেশনও
সৌগত পাল গুমানী কথাটার অর্থ হিন্দিতে অভিমানী। ছোট্ট একটা নদী। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সাহেবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। সামনেই নদীর নামে স্টেশনও। সেটাও নদীর মতোই ছোটোখাটো। আগের স্টেশন কোটালপুকুর। আর একটু বড় স্টেশন পাকুড়। গুমানী ছোটখাট হলেও একটা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারণটা হল, এটা রেল বর্ডার। মানে পূর্ব রেলের হাওড়া আর মালদহ ডিভিশনের বর্ডার। এই স্টেশন পর্যন্ত হাওড়া ডিভিশনের […]
এক রাতে তিন জেলার পুজো
বিভাস বাগ পুজোর সময়ে বাড়ি থেকে পালাই, প্রতি বছর। প্রতি বছর মানে বেশ কয়েক বছর ধরে এটাই চলছে আমাদের। আমাদের মানে ‘যথা ইচ্ছা তথা যা’ গ্রুপের। ওহ্! আমাকে তো চিনতে পারছেন না? ওই যে দীপু, ইন্দ্রদা, গার্ডবাবু, বড়দার লেখায় যাকে ‘ছোটা ডন’ বলে লেখা হয়, আমিই সেই ডন। অনেক সময়ে বাবলা বলেও লেখা হয়। ওটা […]
বর্ষার জলছবি
যথা ইচ্ছা তথা যা ভর বাদর মাহ ভাদর এবার হয়নি। ছেঁড়া ছেঁড়া ক্ষণিকের মেঘ। স্থানীয় বৃষ্টি। তবুও কবি-প্রিয় বরিষণমুখর ক্ষণে জন্ম হয়েছে কত ছবির। তা নিয়েই আজকের বর্ষা-সফর। মুহূর্তের কথা যখন উঠল তখন বৃষ্টিতে জন্ম নেওয়া দৃশ্যের কথাই হোক। শুভ বৈদ্য এবং দীপশেখর দাস দুই বন্ধু। প্রথমজনের ছবি তোলায় পাকা হাত। এক একটা ক্লিকে অবিস্মরণীয় […]
ট্রেন থেকে বাঁকে বাঁকের ছোট নদী
সৌগত পাল সেই ছোটো বেলার কবিতায় পড়া নদী। ‘আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে’। রবি ঠাকুরের কোপাই। আমাদের ‘সহজপাঠ’এর কোপাই। কিন্তু এখন নদীতে বৈশাখ মাসে হাঁটু জলও থাকে না। শুকনো খটখটে। নদী বলে তখন একে চেনা যায় না। রেল কোম্পানির বোর্ডে এর নাম দেখে বুঝে নিতে হয়। ওহ এই সেই কোপাই! আমাদের নস্টালজিয়ার কোপাই। এখন […]
আকাশ চরে কাশবনে এক আনকোরা
দীপশেখর দাস তিষ্ঠানো আমার ধাতে নেই। ভাগ্যেও নেই। একেবারে টিনটিন আর ক্যাপ্টেন হ্যাডকের মতো। ‘চন্দ্রালোকে অভিযান’ মনে পড়ে? দু’জনে সবেমাত্র মার্লিন স্পাইকে ফিরেছে। ক্যাপ্টেন নেস্টরকে ব্যাগপত্র খালি করতে বলল। ঠিক তখনই ক্যালকুলাসের টেলিগ্রাম। তাদের যেতে বলছে বিদেশে। ক্যাপ্টেন নেস্টরকে বললেন, তাহলে আর ব্যাগ খালির দরকার নেই। আমারও তাই দশা। কিছুদিন আগে কর্মসূত্রে যেতে হয়েছিল হিমাচল […]
ক্ষীরাই নদীর কূলে
দীপক দাস মানব সভ্যতা নদীমাতৃক হতে পারে। কিন্তু তাতে রেল কোম্পানির কিছু আসে যায় না। নদীর নামে স্টেশন নেই তেমন! অথচ নদী নিয়ে আমাদের আবেগখানা দেখুন। আমাদের মানে বাঙালিদের। কতগুলি শুধু উপন্যাস আছে নদীকে কেন্দ্র করে। ‘ইছামতী’, ‘পদ্মানদীর মাঝি’, ‘গঙ্গা’, ‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। কত নাম বলব। নদী নিয়ে কবিতাই বা কম কী! […]
বাংলার মুখ- তৃতীয় পর্ব
এই পর্বটিকে অনায়াসে জীবন-ছবি পর্ব বলা যেতে পারে। ঘোরাফেরার ফাঁকে বাংলার জীবনের যেসব টুকরো চোখে পড়েছিল, তারই কোলাজ এই পর্ব। ১। হুগলি জেলার রাজহাটের আমবাগানে বনভোজনে গিয়েছিলাম আমরা। রাজহাট ময়ূরের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু গ্রামটার প্রকৃতি অসাধারণ। আমবাগান, বাঁশঝাড়, মানুষজন। গ্রামের এক গৃহস্থের বাড়ি ধানের মরাই। গ্রামের এক রাস্তা। ছায়ার ঘোমটা মুখে টানা। ২। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি […]










