পাহাড়িয়া বাঁশি বিশেষ ভ্রমণ

প্রকৃতির রূপে হার মানল খিদে

সৌগত পাল

আরও একবার ভিন্ রাজ্য সফর। ভিন্ রাজ্যে সফল না হওয়ার রেকর্ড পাল্টানোর জন্যই এবারের সফরের ডাক দিলেন ক্যাপ্টেন। প্ল্যান প্রোগ্রাম তৈরি করা হল। সফর হবে সিকিমে। সবচেয়ে পরিচিত অংশ লাচেন বা গুরুদংমার লেক নয়। আমরা যাব সিকিমের পূর্ব ও দক্ষিণ অংশ। এবারের দল মুসৌরির মতো বড় না হলেও ছোট বলা যায় না। কচিকাঁচা মিলিয়ে ১৭ জন। এবারে রামপুরহাটের দল ভারী। ১০ জন উঠব রামপুরহাট থেকে। আর বাকি সাত জন বাঁকুড়া থেকে। একই ট্রেনে। বেঙ্গালুরু থেকে বাঁকুড়া হয়ে এই ট্রেন রামপুরহাট হয়ে পৌঁছে যাবে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন।

এই সফর ক্যাপ্টেনের পরীক্ষা নেবে। ব্যর্থ হলে ক্যাপ্টেনের আসন টলোমলো হবে। তাই ক্যাপ্টেন খুব সতর্ক।

কিন্তু তাও প্রথমেই অঘটন। গাড়ি ঠিক করতে গিয়ে অনলাইনে জালিয়াতির শিকার হয়ে বেশ কিছু টাকা গচ্চা দিতে হল। হতোদ্যম না হয়ে নতুন গাড়ি ঠিক করে শুরু হল সফর।

যাওয়ার পথে করোনেশন ব্রিজ

রাত ১১:১৫টায় রামপুরহাট থেকে ট্রেন। সকাল ৬টায় এনজেপি। ঠিক সময়ে ট্রেন এল। রাতে ট্রেনে উঠে কিছুই করার নেই। বিছানা করে শুয়ে পড়া ছাড়া। সকালে সঠিক সময়ে ট্রেন পৌঁছে গেল এনজেপি।

ট্রেন থেকে নামার পর হাত মুখ ধুয়ে ঠিক করে রাখা গাড়িতে রওনা দিলাম সেবকের পথে। ওখানে টিফিন করে যাত্রা মংপুর উদ্দেশ্যে। মংপুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত ঘর আর কুইনাইন ফ্যাক্টরি দেখে পৌছালাম যোগীঘাট। যোগীঘাট একটা পাহাড়ি নদীর উপর তৈরি হওয়া সেতু। নতুন ব্রিজের পাশে বাতিল পুরানোটাও দেখা যাচ্ছে। ফটোসেশনের পর পরবর্তী গন্তব্য নামথিং লেক। স্থানীয় ভাষায় পোখরি। লেক এখন শুকনো। লেকের চারপাশে পাইন গাছের সারি। এখানে বিরল প্রজাতির তক্ষক আছে বলে জানা গেল। সেখান থেকে আমাদের আজকের শেষ গন্তব্য অহলদারা। আমাদের আস্তানা। স্নান খাওয়া সেরে একটু বিশ্রাম নিয়ে আমরা বেরোলাম চারপাশে ঘুরে দেখতে। ফিরলাম একেবারে সূর্যাস্ত দেখে।

পুরনো যোগীঘাট সেতু।

পাহাড়ি ছোট গ্রামের যা যা বৈশিষ্ট্য সবই এখানে আছে। কয়েক ঘর বাসিন্দা নিয়ে গ্রাম। প্রত্যেক বাড়িতেই হোম স্টে। আর সহজ আর আন্তরিক ব্যবহার যা মনে থেকে যায় এখান থেকে দেখা সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের মতো।

সন্ধ্যায় চা পকোড়া সহযোগে আড্ডা আর রাতের খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়া। কারণ সারাদিনের ক্লান্তি আর পরদিন সূর্যোদয় দেখার জন্য তাড়াতাড়ি উঠতে হবে।

অহলদার
অহলদার পেরিয়ে পেলিংয়ের পথে।

সকালে শীতে কাঁপতে কাঁপতে হোম স্টে থেকে বেরিয়ে উঁচু জায়গাটায় পৌঁছে গেলাম সবাই। দেখলাম এই শীতের মধ্যেও বেশ অনেক লোকজন। নিজের নিয়মে সূর্যদেব উপস্থিতি জানিয়ে দিলেন। শুরু হল রঙের খেলা। শীতকে বাগ মানিয়ে আমরাও ফটোসেশন শুরু করলাম।

ফটোসেশনের জন্য আমাদের তৈরি হয়ে বেরোতে দেরি হল। সকালের টিফিন করে আরও এক দফা ফটোসেশন। আসলে অহলদাড়া সকলের খুব ভাল লাগছিল। ছেড়ে যেতে মন চাইছিল না। কিন্তু আমাদের কর্মসূচি পর পর সাজানো। দেরি করলে পরের প্ল্যান গড়বড় হয়ে যাবে। তাই ১০টা নাগাদ যাত্রা শুরু হল পেলিংয়ের উদ্দেশ্যে। বেশ অনেকটা রাস্তা যেতে হবে। মাঝে কয়েক জায়গায় দাঁড়াতে হবে।

অহলদারে সূর্যোদয়।

আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলল তিস্তা বাজার হয়ে মেল্লি চেকপোস্টের দিকে। পশ্চিমবঙ্গ আর সিকিমের সীমানা এই চেকপোস্ট। মেল্লি নদী পার করে চেকপোস্টে গাড়ি থামল। এখানে ছানবিন হওয়ার পর আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলল রাম্বি হাইরোড ধরে জোড়থাংয়ের দিকে। এই রাস্তার অবস্থা বেশ খারাপ। পাহাড়ি এলাকায় খারাপ রাস্তা স্বাভাবিক ব্যাপার। বর্ষায় ধস নেমে রাস্তা খারাপ হয়। সেই রাস্তা সারিয়ে ঠিকঠাক করতে করতে আবার ধস নেমে যায়।

অহলদার থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

জোড়থাংয়ে আমরা দাঁড়াব দুপুরের খাবার খেতে। এর পরে খাবার জায়গা সেই ভাবে নেই। জোড়থাং বেশ জমজমাট জায়গা। জোড়থাং এ খাবার খেতে আবার এক দফা দেরি হল। যেহেতু এটাই বড় শহর তাই সকলে এখানেই খাবার জন্য হল্ট নিচ্ছেন। অর্ডার করে পেতে দেরি হচ্ছে। আমরা দু’টো হোটেলে ভাগাভাগি করে গেলাম। তাও অনেকটা সময় গেল। খাবারে সাধারণ ভাত ডাল, শাক আর সবজি ছিলো। চালের সঙ্গে ভুট্টার দানা সিদ্ধ করে ভাত বানানো হয়েছে। তার জন্য ভাতের স্বাদ অন্যরকম লাগল। আর অনেক রকম আচার ছিল।

রাতের পেলিং।

দেরিতে চলার জন্য আমরা না থেমে এগিয়ে যাচ্ছিলাম সিংসোর ব্রিজ দেখতে। পথে আমাদের থামার কথা ছিলো কালুক, রিনচেনপং। কিন্তু সময়ের অভাবে গাড়ি থেকেই দেখে নিয়ে এগিয়ে চললাম। ছোট ছোট গ্রাম পেরিয়ে আমাদের গাড়ি ছুটে চলেছিল। প্রতিটা বাড়ির সঙ্গে একফালি জমি। তাতে সবজি চাষ হয়েছে। গবাদি পশু আছে প্রতিটি বাড়িতে। স্কুল ছুটির পর বাচ্চারা দল বেঁধে বাড়ি ফিরছে।

পেলিংয়ে সূর্যোদয়ের আগে।

সিংসোর ব্রিজ যখন পৌঁছলাম তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। আর ব্রিজে ওঠা যাবে না। টিকিট কাউন্টার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হতাশ হয়ে বাইরে থেকে এক ঝলক দেখে ফিরে চললাম গাড়িতে। দেখা হল না ঝুলন্ত ব্রিজ সিংসোর।

পেলিং পৌঁছে হোটেল ঢুকে মুগ্ধ হলাম। হোটেলের বারান্দা থেকে দেখা যাচ্ছে গুরু পূর্ণিমার চাঁদ। আবহাওয়া ভাল থাকলে সকালে এখানেই দেখতে পাব কাঞ্চনজঙ্ঘা। বার বার তিনবারে কি অপেক্ষার শেষ হবে?

পেলিংয়ের স্কাইওয়াক।

দলবেঁধে বেরনো হল চা কফি খাওয়া আর চারপাশে একটু ঘুরে দেখব বলে। আমরা ছিলাম আপার পেলিংয়ে। দার্জিলিং বা গ্যাংটকের মতো জমজমাট বা হট্টগোল নেই। ছিমছাম ছোট্ট জায়গা। চা খেতে খেতে জেনে নিলাম, ৯টার মধ্যে এখানে দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে যায়। তাই রাতের খাবার এর মধ্যেই শেষ করে নিতে হবে।

বাঙালি ব্যবসা জানে না এই অপবাদ এখানে বোধহয় তুলে নিতে হবে। বেশিরভাগ হোটেল বা রেস্তরাঁ বাঙালি লিজ নিয়ে চালাচ্ছে। তবে এখানে খাবার খুব দামী। কারণ এখানে সবকিছুই আসে শিলিগুড়ি থেকে। রাতের খাওয়া সেরে আবার শুতে গেলাম পরদিন ভোরের অপেক্ষায়।

রাভাংলা বুদ্ধ পার্ক।

সকালে যখন ঘুম ভাঙল তখনও আলো ফোটেনি। আধো অন্ধকারে বারান্দায় গিয়ে দেখি দুয়ারে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এত সামনে যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। কালকের অসাধারণ সূর্যোদয় দেখার পর আজ কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন। আর কিছু না দেখলেও এবারের সফর পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। পাশের বারান্দায় দাঁড়ানো ক্যাপ্টেনকে দেখলাম। হাবভাবে চাকরি বাঁচিয়ে ফেলার খুশি। বাকি সবাই অভিভূত। মুগ্ধতা আরও বাড়ল যখন সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়লো প্রতি শৃঙ্গে। রং বদলের খেলায় শায়িত বুদ্ধের রূপ সারা জীবন স্মৃতিতে থেকে যাবে।

আমাদের দল। অনেক হোম মিনিস্টার। কিছু সচিব আর আন্ডার সেক্রেটারি।

হোটেল থেকে শুয়ে, বসে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে এবার বেরোব পেলিংয়ের আশপাশের জায়গা ঘুরে দেখতে। প্রথম গন্তব্য খেচিপেলরি লেক। পথে পড়ল একটা ছোট জলজলপ্রপাত রিম্বি। বর্ষার আগে। তাই খুব একটা জল নেই। টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। স্থানীয় বিশ্বাস, এটা খুব পবিত্র হ্রদ। এর জল কখনও অপরিষ্কার থাকে না। গাছের পাতা পড়ে থাকলে পাখি এসে পরিষ্কার করে দেয়।

পরের গন্তব্য পেলিংয়ের স্কাইওয়াক। পথে কাঞ্চনজঙ্ঘা জলপ্রপাত দেখলাম। পাহাড়ি রাস্তায় ছোট বড় জলপ্রপাত অনেক দেখা যায়। কাঞ্চনজঙ্ঘা জলপ্রপাতের কাছে একটু চা বিরতি নেওয়া হল। স্কাইওয়াকে টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকে ঘোরাঘুরি করলাম। স্কাইওয়াকের মেঝে স্বচ্ছ কাচের তৈরি। তাই হাঁটার সময় মনে হয় শূন্যে হাঁটছি। স্কাইওয়াকের কেন্দ্রে আছে বুদ্ধের উঁচু মূর্তি। স্কাইওয়াকে দেখা একসময়ের সহপাঠী তনুশ্রীর সঙ্গে। পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে এসেছে। কুশল সমাচার আদান প্রদান করে আমরা এগোলাম সাঙ্গাচোলিং মনাস্ট্রিতে। সিকিমের অন্যতম প্রাচীন মনাস্ট্রি। শান্ত পরিবেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসেই সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়। সন্ধ্যায় হোটেলে ফিরে অলস ঘোরাঘুরি। তার পর খাওয়া শেষে ঘুম।

কাঞ্চনজঙ্ঘা জলপ্রপাত।

সকালে তৈরি হয়ে দলবেঁধে চললাম রাবদানসে দেখতে। এটা সিকিমের প্রাচীন রাজধানী। এখন খণ্ডহরে পরিণত। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন। মূল রাস্তা থেকে রাবদানসে খণ্ডহরে পৌঁছনোর রাস্তাটা এক কথায় অনবদ্য। প্রাচীন গাছগাছালিতে ঘেরা চড়াই রাস্তা এত শান্ত যে নিজের পায়ের শব্দে চমকে উঠতে হয়। মাঝে মাঝে গাছের পাতা থেকে টুপটাপ করে জলের ফোঁটা পড়ছে। পুরাতত্ত্ব বিভাগের বোর্ড প্রতি ১০০ মিটারের শেষে খণ্ডহরের আগমন ঘোষণা করছে। খণ্ডহর পৌঁছনোর পরও মন ভাল হয়ে যায়। এখান থেকে বহুদূর পর্যন্ত প্রকৃতির রূপ দেখে।

নামথিং পোখরি বা লেক। তখন শুকনো।

রাবদানসে দেখার পর আমরা রওনা দেবো রাভাংলা। পথে হল গন্ডগোল। আজ সিকিমে ভোট। পেলিং আসার পথেই নজরে পড়েছিল নানা প্রতীক চিহ্ন-সহ প্রার্থীদের ছবি। হরেক কিসিমের প্রতীক চিহ্ন। ইস্ত্রি থেকে কোদাল, হিরে থেকে সেলাই মেশিন। আজ ভোটের জন্য সব দোকানপাট বন্ধ। এ দিকে সবার ইঞ্জিন রসদ চাইছে।

যথা ইচ্ছার দলীয় ভ্রমণ হলে এসব সমস্যা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যেত। কিন্তু এখানে হোম মিনিস্টারদের বিচারই শেষ কথা। এর থেকে ক্যাপ্টেন থেকে ভাইস ক্যাপ্টেন কারও রেহাই নেই। ফলত গেজিং বাজারে খাবার না খাওয়া অব্দি গোটা পথে মুখ ঝামটা চলতে থাকল। কাজের জন্য রাস্তা খারাপ। তাই রাভাংলা পৌঁছলাম একটু দেরিতে। দুপুরে খাবার খেয়ে চলা হল টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট দেখতে। টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট যাবার রাস্তা এত জঘন্য মনে হচ্ছিল এর থেকে টাইটানিক জাহাজ ডোবার যাত্রীরা কম কষ্ট সহ্য করেছিল। হোম মিনিস্টারের বাক্যবাণের কথা ছেড়েই দিলাম।

নামচি চারধাম।

টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট পৌঁছে সব অভাব অভিযোগ মুগ্ধতায় বদলে গেল। ভয়ঙ্কর সুন্দর এই টাইটানিক পয়েন্ট। জাহাজের কিনারার মতো আকৃতির পাহাড়ের শেষ প্রান্তে রেলিং ঘেরা ভিউ পয়েন্ট সত্যি অতুলনীয়। নীচে অতল খাদ আর সামনে দিগন্ত ছোঁয়া পাহাড়। ফটোসেশন চলল বেশ অনেকক্ষণ ধরে। তবে ক্যাপ্টেন আর ভাইস ক্যাপ্টেনের ফ্যামিলি ফটোসেশন দেখে মনে হবে দুই যুযুধান নেতার সাক্ষাত হচ্ছে।

টাইটানিক পয়েন্ট থেকে নামতে নামতে বিকেল হয়ে গেল। আলো আঁধারির মধ্যে আমরা এসে পৌঁছলাম রাভাংলার প্রধান আকর্ষণ বুদ্ধ পার্কে। টিকিট কেটে ভিতরে ঢোকার মুখে একপশলা বৃষ্টি হয়ে গেল। তার পর হঠাৎ করে ঠান্ডা বাড়তে লাগল। সাজানো গোছানো শান্ত বুদ্ধ পার্কে বেশ কিছু সময় কাটিয়ে বাইরে বেরোলাম। চা খেতে খেতে রাতের খাবার অর্ডার করে গল্প আড্ডা চলতে লাগল। রাভাংলাতেও হোটেল রেস্তরাঁয় বাঙালির রমরমা। রাতের খাবার খেয়ে হাঁটাহাঁটি করে আজকের মতো সফর শেষ হল। কাল ঘোরাঘুরির শেষ দিন তাই মন খারাপ নিয়ে শুতে গেলাম।

টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট।

সকালে উঠে আজ আর ভুল না করে আগে টিফিন সেরে বেরিয়ে পড়া টেমি টি গার্ডেনের উদ্দেশ্যে। সিকিমের একমাত্র চা বাগান। রাস্তার পাশে সবুজ চা বাগানে সকাল সকাল দেখলাম বেশ ভিড় হয়েছে। চা বাগানের চা রাস্তার পাশে ছোট দোকানে বিক্রি হচ্ছে। পরখ করে বাড়ির জন্য চা পাতা কিনে আবার চলা শুরু হল নামচির উদ্দেশ্যে।

নামচি বাজার পেরিয়ে আমরা থামলাম চারধাম মন্দিরে। ভারতের চার প্রান্তের চারটি উল্লেখযোগ্য মন্দিরের আদলে এই চারধাম। পুরীর জগন্নাথ, দক্ষিণের রামেশ্বরম, বিহারের বৈদ্যনাথধাম আর গুজরাটের আর দ্বাদশ জ্যোর্তিলিঙ্গ। চারধাম চত্বর থেকে চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য অসাধারণ। দুপুরে খাওয়া সেরে রওনা হলাম শিলিগুড়ির দিকে। পথে পড়ল বাইচুং ভুটিয়ার নামাঙ্কিত স্টেডিয়াম। ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে সম্মান জানিয়ে এই স্টেডিয়াম তৈরি হয়। ভিতরে ঢোকার অনুমতি নেই। তাই বাইরে থেকে এক ঝলক দেখে এবারের মতো শেষ হল সফর।

পেলিংয়ের হোটেলের বারান্দা থেকে তোলা।

এবারের সফর পাঁচে পাঁচ। ক্যাপ্টেন আবার একটু নম্বর কেটে ৪.৫ বলেছেন। কারণ কম আলোর জন্য সিংসোর ব্রিজ আর রাভাংলা বুদ্ধ পার্ক দেখা হয়নি।

কভারের ছবি— কাঞ্চনজঙ্ঘার রং বদল

ছবি— লেখক

(সমাপ্ত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *