দার্জিলিং।
পাহাড়িয়া বাঁশি বিশেষ ভ্রমণ

ধারা চানে চটকপুরে

সৌগত পাল

জুলাই মাসের শেষ। ২০২৩। বৃষ্টি পড়ছে। তাই ঘরে ল্যাদ খাচ্ছি। বাঁকুড়া থেকে ক্যাপ্টেন কলিং। এ বছরের ঘুরতে যাওয়ার জায়গা ঠিক করতে হবে। কিন্তু আমাদের সময় তো নভেম্বর বা ডিসেম্বর। এতো আগে থেকে ঠিক করব কেন?

ক্যাপ্টেনের আবদার যদি অগস্টে একটা ছোট সফর করা যায় তা হলে নভেম্বর এ বড় সফর যেমন হয় সে রকম হবে। প্রথমেই এই প্রস্তাব ডেপুটি হিসেবে খারিজ করে দিলাম। কারণ পরে আমাদের উপরওয়ালারা ছুটি চাইতে গেলে এমনিই খারিজ করে দেবেন। তাই ঝামেলা আগেই খতম করে দেওয়া। দরাদরি করে ঠিক হল তা হলে নভেম্বর নয় এক মাস এগিয়ে অক্টোবরে এবারের সফর। দীপুদার দার্জিলিং এবং সঙ্গে অফবিট।

কার্শিয়াং ভিউ পয়েন্ট থেকে।

আমার দায়িত্ব অফবিট জায়গা খুঁজে বলা। আর তার পর ক্যাপ্টেন সেখানে যত হোটেল বা হোমস্টে আছে তাঁদের সঙ্গে নিজের বিখ্যাত হিন্দিতে বাতচিত করে দরদাম করা। আমার দায়িত্ব পালন করে দিয়েছি। দার্জিলিংয়ের সঙ্গে অফবিট হিসেবে চটকপুর আর দাওয়াইপানি রেখে সফরসূচি তৈরি করে দিয়েছি। ক্যাপ্টেন চটকপুর আর দাওয়াইপানির সবথেকে ভাল হোমস্টে কোনটা আর কত কম টাকায় বুককরতেপারল সে অন্য গল্প।

এবারের দল ছোট। সাড়ে ছয় থুড়ি সাতজনের দল। এবার টিকিট কাটার পালা। আমাদের প্রথম পছন্দ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস। কিন্তু টিকিট শেষ। কোনও গাড়িতেই টিকিট নেই। ওয়েটিং টিকিট নিয়ে ওয়েট করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। এ দিকে ক্যাপ্টেন দার্জিলিংয়ে হোটেল আর চটকপুর ও দাওয়াইপানিতে হোমস্টে বুক করে গাড়িও ফাইনাল করে দিয়েছেন। দু’দিন ছাড়া হোমস্টের নম্বরে ফোন করে বুকিং কনফার্ম কিনা একবার করে জেনে নেয়। দেরাদুনে হোটেল বুক করে আবার বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ক্যাপ্টেন আর ঝুঁকি নিতে চান না।

গিদ্দা ভিউ পয়েন্ট।

নির্দিষ্ট দিনে সকাল থেকে আশায় আশায় থাকলাম যদি টিকিট কনফার্ম হয়। ওদিকে ক্যাপ্টেন সাতসকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন এক ঢিলে দুই পাখি মারতে। মানে বাঁকুড়া থেকে বোলপুর এসে সারাদিন শান্তিনিকেতন ঘুরে সন্ধ্যায় রামপুরহাট এসে রাতে সেখান থেকেউত্তরবঙ্গ ধরার প্ল্যান। আমার দায়িত্ব টিকিট কনফার্ম হল কিনা সেটা দেখা।

দুপুরে হঠাৎ দেখলাম একটা লেট গাড়ি এবং তাতে সিট পাওয়া যাচ্ছে। রাত ০৯:৩০নাগাদ রামপুরহাট পৌঁছাবে। উত্তেজিত হয়ে ক্যাপ্টেনকে বার্তা পাঠাতে চাইলাম। কিন্তু ক্যাপ্টেনের মুঠোফোন উল্টে বার্তা দিল, উনি এখন পরিষেবার বাইরে। হাত কামড়ানো ছাড়া কোনও উপায় নেই।

হনুমান টপ।

বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ ক্যাপ্টেন ফোন করে জানালেন ভিডিও তুলতে গিয়ে ফোন দেহ রেখেছিল তাই পরিষেবা সীমার বাইরে। এদিকে একসঙ্গে দু’টো দুঃসংবাদ। উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসে রেজাল্ট বেরিয়ে গিয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা তৈরি। কিন্তু তাতে আমাদের কারও নাম নেই। সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া চোখ রাঙাচ্ছে। স্কোরবোর্ডে রান তোলার আগেই ওপেনিং জুটির পতন, এ রকম একটা অবস্থা।

সাধারণ কামরায় সারারাত জেগে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। হঠাৎ কী মনে হতে আজিমগঞ্জ থেকে কোনও ট্রেনে টিকিট আছে কিনা দেখার কথা মনে হল। দেখলাম, সেদিন পাহাড়িয়া এক্সপ্রেস আছে এবং টিকিটও। সঙ্গে সঙ্গে বুকিং করা হল।

এই সেই চিমনি।

রাত বাড়ছে সঙ্গে বৃষ্টি। ছাতা-মাথা সঙ্গী নিয়ে স্টেশনে। পুরো পরিবার-সহ ক্যাপ্টেন, তাঁর ডেপুটি এবং আমার সহকর্মী সন্দীপ ও তার পরিবার রাত ১১টা নাগাদ স্টেশনে পৌঁছে গেলাম। প্ল্যাটফর্মে তিনজন দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া হল। ট্রেন ঢুকলে একজন সবার লটবহর দেখবে। বাকি দু’জন জায়গা দখল করবে। মহিলা সদস্যারা আত্মনির্ভর।

এক নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে শুরু হল এবারের সফর। সঠিক সময়ে রামপুরহাট ছাড়ল ট্রেন। রাত ২টো নাগাদ পৌঁছল মালদা টাউন স্টেশনে। পাহাড়িয়া এক্সপ্রেসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে প্রায় ৪০ মিনিট। নির্দিষ্ট সময়েই পৌঁছল পাহাড়িয়া এক্সপ্রেস। যে যার সিটে উঠে সময় নষ্ট না করে দিনের জন্য এনার্জি সংগ্রহ করতে চোখ বুজলাম।

দার্জিলিং ম্যাল চৌরাস্তা।

৮টার কিছু পরে ট্রেন পৌঁছলো নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে। এখানে ঝকঝকে পরিষ্কার আকাশ। বৃষ্টির চিহ্নমাত্র নেই। ট্রেন স্টেশনে ঢোকার সময়ে গাড়ি ডেকে নেওয়া হয়েছিল। স্টেশনের বাইরে ড্রাইভারদাদা অপেক্ষা করছেন। জামার রং দেখে চিনে নিতে হবে। বাইরে বেরিয়ে ড্রাইভারদাদার সঙ্গে ক্যাপ্টেন পরিচয় সেরে আমাদের মার্চ করে গাড়ির দিকে নিয়ে চললেন।

ইতিমধ্যে ক্যাপ্টেনের ফোন বাজল। ড্রাইভারদাদার। কিন্তু ড্রাইভারদাদা তো আমাদের সঙ্গেই চলেছেন! ক্যাপ্টেন ফোন ধরলেন এবং তার পর বোঝা গেল গোলমাল হ্যায়। আমাদের ঠিক করা ড্রাইভারদাদা স্টেশনের বাইরে অপেক্ষা করছেন। দেরি দেখে ফোন করেছেন। আমরা যাঁর সঙ্গে চলেছি উনি অন্যদলকে আনতে এসেছেন। দু’জনের জামার রং এক হয়ে গিয়ে উলটপুরাণ হয়ে গেছে। ভ্রম সংশোধন করে ঠিক গাড়িতে বসে শুরু হল সফর।

কেভেন্টার্স থেকে তোলা ছবি।

এবারে দার্জিলিং পৌঁছব কার্শিয়াং হয়ে। প্রথমবার গেছিলাম মিরিক হয়ে। এবারে দল ছোট। তাই একটা গাড়িতেই সবাই যাচ্ছি। শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে সবুজের রাজ্যে প্রবেশ করে সবার মন ফুরফুরে। কার্শিয়াং ভিউপয়েন্টে এসে গাড়ি থামল। মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশকে সঙ্গে নিয়ে কার্শিয়াং অনন্য সুন্দর। ছবি তোলা শেষ হচ্ছিল না। অনেকটা সময় কাটিয়ে এগনো গেল গিদ্দাপাহাড়ের দিকে।

গিদ্দাপাহাড় একটা ছোটগ্রাম। একটা ভিউ পয়েন্ট আছে। যেটা থেকে পাহাড়ে ঘেরা কার্শিয়াং শহর অসাধারণ লাগে। এখানেই আছে নেতাজি সুভাষ সংগ্রহশালা। আদতে এটি শরৎচন্দ্র বসুর বাড়ি। নেতাজি পরিবারের বেশকিছু ছবি ও নেতাজির ব্যবহৃত আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো।

নেতাজি সংগ্রহশালা।

পরের গন্তব্য হনুমান টপ। এটিও ভিউপয়েন্ট। হনুমানের বিরাট একটা মূর্তি আর কয়েকটা বসার জায়গা। দুপুরের খাওয়াদাওয়া শেষ করে পরবর্তী গন্তব্য ডাওহিল। এটা বোধহয় কার্শিয়াংয়ের সবথেকে বিখ্যাত জায়গা। ঘন জঙ্গলে ঘেরা রাস্তা দিনের বেলাতেও আলোআঁধারি। পরিবেশ অশরীরীর উপস্থিতির ইন্ধন জোগানোর জন্য আদর্শ। আর আছে ডাওহিল স্কুল। যদিও স্কুলের মূল দরজা তালা দেওয়া। বাইরে থেকে যতটা দেখা যায় দেখে নিয়ে চললাম পরবর্তী গন্তব্যে।

দার্জিলিং রেলস্টেশন।

পরবর্তী গন্তব্য চিমনি। ছোট্ট গ্রাম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের তৈরি একটা চিমনি থেকে এই গ্রামের নাম। সেই ২৩ ফুট উঁচু চিমনি এখনও রয়েছে। সেটাকে কেন্দ্র করে একটা পার্ক তৈরি হয়েছে। আজকের মতো ঘোরাঘুরির পালা চিমনি দিয়ে শেষ হল। এখান থেকে আমরা চলে যাব দার্জিলিং। ম্যাল রোডের উপর হোটেল চাণক্য আমাদের আজ রাতের আস্তানা। হোটেলে লটবহর রেখে তরতাজা হয়ে ম্যাল রোডে। কিন্ত হোটেল থেকে বেরোবার মুখে তিনি এলেন। মুষলধারে।

ঘুম স্টেশন।

কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর মুষলধারে থেকে টিপটিপ হতে ছাতা নিয়ে ম্যালপরিক্রমায়। দেখলাম, বৃষ্টি ম্যাল রোডের ভিড়ে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। দার্জিলিংয়ে এখন মরসুম, অমরসুম বলে কিছু নেই। সারা বছর মানুষের ঢল। তাই নির্জনতার খোঁজে জন্ম নিচ্ছে অফবিট। তবে অফবিটে হোমস্টের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে সেই জায়গাগুলো কতদিন নির্জন থাকবে সেটা সময় বলবে।

হেঁটে পৌঁছে গেলাম দার্জিলিং ম্যালে। রঙিন আলো, সঙ্গে বৃষ্টিভেজা ম্যাল এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে। ম্যালে সন্ধ্যা কাটিয়ে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে পৌঁছলাম। সারাদিন ঘোরাঘুরির শেষে ঘুম। কালকের গন্তব্য চটকপুর।

বাতাসিয়া লুপ।

সকালে ম্যালে যাওয়ার দু’টো কারণ ছিল। সকালে পরিবেশ এবং পেট পুজো। কেভেন্টার্স এখনও খোলেনি। কিন্তু লাইন পড়ে গেছে। খেয়েদেয়ে হোটেলে পৌঁছলাম। তবে লাইনে অপেক্ষার সময় রিলে সিস্টেমে সকলে স্নান সেরে নিয়েছিলাম। তাই খাওয়া শেষ করেই চটকপুরগামী হওয়া গিয়েছিল। দার্জিলিং রেলস্টেশনে একটু ছবি তুলে বাতাসিয়া লুপের দিকে। একদফা ফটোসেশন করে ঘুম স্টেশনের দিকে। ঘুম স্টেশনের সামনেটা সবসময় ভিড় থাকে। তাই ওখানে আর গাড়ি থামিয়ে নামা হল না। ঘুমকে পিছনে ফেলে সজাগ চোখে চললাম চটকপুর।

চটকপুর আদতে সিঞ্চল বন বিভাগের ভিতরে অবস্থিত ছোট্টো একটা গ্রাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এখন জনপ্রিয় অফবিট। জঙ্গলের ঢুকতে মাথাপিছু টিকিট লাগে। আবার বেরোনোর সময় ওই টিকিট দেখাতে হবে। এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে চটকপুর গ্রাম পর্যন্ত রাস্তা খুব সরু আর এবড়োখেবড়ো। উল্টোদিক থেকে গাড়ি এলে দাঁড়িয়ে জায়গা করে দিতে হচ্ছে। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম চটকপুর। প্রেমজির হোমস্টেতে থাকব। হোমস্টে থেকে চারপাশের পরিবেশ দেখে মন ভরে গেল। আমরা আবদার করলাম এই প্রকৃতির মাঝে বসেই দুপুরের খাবার খাব।

ডাওহিল স্কুল।

তরতাজা হয়ে বাইরে এসে দেখি, এর মধ্যে প্রকৃতির ভোল বদলে গেছে। রোদ ঝলমল প্রকৃতি এখন ঘন মেঘে ঢাকা। বৃষ্টি নামবে এখনই। ঘরের ভিতর থেকে বৃষ্টি দেখতে দেখতে খাওয়া হল। ভেবেছিলাম খাবার পর আশপাশটা একটু ঘুরে আসব। কিন্তু বৃষ্টি থামার কোনও নাম নিচ্ছে না। ভেবেছিলাম পাহাড়ি বৃষ্টি কিছুক্ষণ পরে থেমে যাবে। কিন্তু অক্টোবর মাসে অগস্টের মতো বর্ষাকালের বৃষ্টি দেখতে হবে মোটেও ভাবিনি। এই বৃষ্টি চলেছিল আরও কয়েকদিন। বৃষ্টি মাথায় যাত্রা শুরু। সফর শেষ হয়েছিল সেই বৃষ্টি নিয়েই।

বিকেলে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বেরোলাম হোমস্টে থেকে। সামনেই একটা ওয়াচ টাওয়ার আছে। পাশ দিয়ে  সরু পায়ে চলা রাস্তা নেমে গেছে নীচের দিকে। ওই পথ দিয়ে কালীপোখরি যাওয়া যায়। কিন্ত আবহাওয়া দেখে যেতে সাহস হল না। সন্ধ্যায় হোমস্টের মধ্যে বসে বৃষ্টির শব্দ শুনে সময় কাটানো ছাড়া কোনও কাজ নেই। সঙ্গে ক্যাপ্টেন বিকাশচন্দ্র সরকারের হাহুতাশ।

সকালে আবহাওয়ার কোনও বদল হয়নি। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চটকপুরকে বিদায় জানিয়ে রওনা দিলাম দাওয়াইপানির উদ্দেশ্যে। অঝোর ধারায় বৃষ্টির মধ্যেই দাওয়াইপানির বীরেনজীর হোমস্টেয় ওটা। খাওয়া আর ঘুম ছাড়া আমাদের আপাতত কিছুই করার নেই। বিকেলে একটু আকাশ ধরতে হেঁটে গ্রামটা ঘুরলাম। নির্জন ছোট একটা গ্রাম। তবে ধীরে ধীরে ইমারতের জঙ্গল সবুজকে গ্রাস করছে।

চটকপুর হোমস্টে থেকে তোলা।

সন্ধ্যায় ঘরে বসে আড্ডা ছাড়া আর কিছু করার নেই। পরবর্তী সফর কোথায় হবে জানতে চাইলাম ক্যাপ্টেনের কাছে। কিন্তু ক্যাপ্টেন খুবই মুষড়ে পড়েছেন। কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন। সকালে মিরিক হয়ে ফিরব শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ি থেকে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে ফিরব। রাস্তায় যেতে খবর পেলাম বৃষ্টির ফলে পরিস্থিতি খারাপ। সিকিমে বন্যা পরিস্থিতি। চুংথাং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্যার তোড়ে ভেসে গেছে। সেই জলের তোড় তিস্তাকেও ভাসিয়ে দিয়েছে। জাতীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত। প্রতি বছর বর্ষায় পাহাড়ি এলাকায় বন্যা এবংতার ফলে ধস নিয়মে পরিণত হয়েছে। সেটা সিকিম হোক বা উত্তরাখণ্ড। জঙ্গল, পাহাড় ধ্বংস করে সভ্যতার বিস্তার ঘটাতে চাইলে প্রকৃতির প্রত্যাঘাত ঘটবেই।

ড্রাইভারদাদাকে বলা হল তাড়াতাড়ি শিলিগুড়ি পৌঁছে দিতে। কারণ বৃষ্টি বাড়লে ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে বিপদ হবে।

পথে গোপালধারা টি এস্টেটের কাছে নামা হল। চা-পান সঙ্গে দার্জিলিং চায়ের কেনাকাটা। তার পর সোজা শিলিগুড়ি। স্টেশনে ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা। বৃষ্টি সমানে চলছে।

সঠিক সময়ে ট্রেন এল। ছেড়েও দিল। প্রাপ্তির ঝুলি প্রায় শূন্য রেখেই শেষ হল এবারের সফর।

কভারের ছবি— চটকপুর

ছবি— লেখক

(সমাপ্ত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *