দীপক দাস কাঠামোয় খড় বাঁধা শুরু হলেই আমাদের পুজো পুজো ভাব জাগত। খড় বাঁধার আগেও অবশ্য একটা ধাপ ছিল। দুর্গাদালান পরিষ্কার করা। বেশ বড়সড় দালান। বহু পায়রার আশ্রয় দালানে। সারা বছর ধরে কবুতরের কৃতকর্মের একটা পুরু স্তর পড়ে যেত দালানের মেঝেয়। একদিন দেখা যেত, দালান পরিষ্কার করতে লোক লেগেছে। পাড়ার ছোটরা বুঝত, এবার ঠাকুর তৈরি […]
Author: jathatatha
পবিত্র অরণ্য, লেপচাঘর আর অপরূপা সিটং
দীপশেখর দাস দরজাটা এমনিই খুলে গেল। দরজাটা বাইরে বেরোনোর। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দরজাটা সপাটে বন্ধ করে দিয়েছিল। আমাদের জন্য খুলে গেল হঠাৎই। আমাকে আর সহকর্মী শুভজিতদাকে যেতে হবে পূর্ব হিমালয়ের গ্রামে গ্রামে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করতে। বেরিয়েছিলুম বিশ্বকর্মা পুজোর পরদিনই। তিস্তা-তোর্সায় জানালার পাশেই আসন। ট্রেন শহরাঞ্চল ছাড়তেই মন পুলকিত হল। বাংলার আকাশে তখন মেঘের ঘনঘটা। […]
সাহিত্যিক গদ্যের প্রথম লেখকের খোঁজে
দীপক দাস বছর চারেক আগের কথা। তখন মঙ্গলবার হলেই কোথাও না কোথাও বেরনো হত। জায়গা দেখা, মিষ্টি চাখা। মোট কথা, কোনও ছুতোয় বেরিয়ে পড়া। এখনকার করোনা অতিমারিতে থমকে যাওয়া জীবন ছিল না। ওই পর্বেই হাওড়া জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ও ব্যক্তিত্বের স্মৃতিধন্য জায়গাগুলো দেখেছিলাম। হাওড়ায় ঐতিহাসিক ব্যক্তির অভাব নেই। রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের বাড়িই তো হাওড়ায়। এই […]
নষ্ট সৌন্দর্যের ঠাকুরবাড়ি বা মন্দির-কথা
দীপক দাস কুমোরপাড়াটা পার করলেই দেখা যেত মূর্তিগুলো। ছাদে সার সার দিয়ে বসে আছে। দেখতে ভাল লাগত। কিন্তু বিস্তারিত কিছু জানতাম না। জানা সম্ভবও ছিল না। তখন সবেমাত্র প্রাথমিক স্কুল। গুমোতলায় সুধাময় আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়। কী করে জানব ওই মূর্তিগুলোর গঠন শৈলী বা ঠাকুর দালানে তাদের অবস্থানের তাৎপর্য সম্পর্কে! যেমন জানতাম না কুমোরপাড়ার সুনাম নিয়েও। […]
ঘরে ফেরার স্টেশন
সৌগত পাল গালাগাল আর কত খাওয়া যায়। তাই পেন থুড়ি কি বোর্ডে টাইপ করতেই হল। ক্যাপ্টেনের আবদার। তা-ও আবার গালাগাল দিয়ে। ক্যাপ্টেনের মতে, কোনও জায়গা একবার গেলে সম্পূর্ণ দেখা হয় না। অন্ততপক্ষে দু’বার যেতে হয়। আর দুই ভিন্ন ঋতুতে। যেমন আমরা মুরগুমা গেলাম পুজোর ছুটিতে। সেটাই একবার শীত বা বসন্তে ঘুরে আসা দরকার। ক্যাপ্টেন দু’টো […]
নির্জন সৈকত দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুরে
ইন্দ্রজিৎ সাউ কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ডোজটা নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম। দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুর। নাহ শুনতে আর বলতে যতটা সহজ লাগল ব্যপারটা মোটেই ভিনি ভিডি ভিসি নয়। সময়ে বেরনো নিয়ে বরাবরই আমার একটা ‘সুনাম’ আছে। নিন্দকেরা অবশ্য দুর্নাম বলে থাকে। যতই চেষ্টা করি কোনও না কোনও অজ্ঞাত কারণে দেরি হয়ে যায় প্রায়শই। কিন্তু এবারে দেরি হয়নি। প্রায় ঠিক সময়ে […]
চিংড়ি আর নদের পারে ক্ষণিক জীবন
দীপক দাস ছিপ নিয়ে বসেছিলেন লোকটা। সে আর এমন কী দৃশ্য। আমাদের বাড়ির পাশের পুকুরের দিকে তাকালে প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ ছিপ হাতে ঘাটে বসে। বর্ষার জল জমলে বড় রাস্তার পাশে খালেও দেখা যায় বঁড়শেলদের। তফাৎ একটাই, লোকটা নদীর পারে বসেছিলেন। নদী নয়, নদ। দামোদর। তফাৎ আরও ছিল। সেটা নজরে এল যখন লোকটার […]
কুলগাছিয়ার পুতুল পাড়ার আত্মীয় স্বজনেরা
দীপক দাস সোশ্যাল পাড়ায় সংবাদটা মিলেছিল। মাটির পুতুল তৈরি হয় কুলগাছিয়ার এক গ্রামে। চণ্ডীপুরের পটুয়াপাড়ায়। পুতুল নিয়ে ইদানীং আগ্রহ বেড়েছে। পুতুলেরও ইতিহাস থাকে যে! অনেক পরত সেই ইতিহাসের। উৎসের ইতিহাস, সামাজিক ইতিহাস, কালের ধারায় বিবর্তন— কত কী যে জানা যায়! খোঁজ যখন মিলেছে তখন খবর নেওয়াটা কর্তব্য। অবশ্য কর্তব্যবোধ জাগার পিছনে দীপুবাবুর অনুপ্রেরণা ছিল। আমাদের […]
ইতিউতি হাওড়ার জীবজগৎ— অষ্টম পর্ব
যথা ইচ্ছা তথা যা ১। চামচিকে ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচতে মশারির ভিতরে থেকে পড়াশোনা করছি। রাত তখন মধ্য বা গভীর। হঠাৎ অন্যরকম একটা আওয়াজে চটক লাগল। আওয়াজটা যেন কাছ থেকেই আসছে। ও বাবা! দেখি মশারির ছাদে ডানা মেলে শুয়ে আছেন তিনি। ছুঁতে না পেরে বোধহয় রাগ হয়েছিল বাবুর। (দীপশেখর দাসের অভিজ্ঞতা)। ২। লার্ভা পাতিহালের ফিডার রোড। […]
মিষ্টি পথে যেতে যেতে খেতে খেতে
দীপক দাস একটা মিষ্টি মানচিত্র অনায়াসেই তৈরি করা যায়। কিংবা রেশম পথের মতো মিষ্টি-পথ! অন্তত হাওড়ার। যতদূর পর্যন্ত জিভের নাগালে এসেছে ততদূর পর্যন্ত করা যেতেই পারে। পথ চলা মসৃণ হলে মানচিত্র আপনই আন্ত:জেলা বা আন্ত:রাজ্যের রূপ পাবে। শুরুটা হওয়া উচিত মূল শহর থেকে। কিন্তু শহরের দোকানে মিষ্টি বেশি খাইনি। বিশেষত্ব আছে এমন দোকানে তো নয়ই। […]










