খাদ্য সফর

মনোহরার খোঁজে এক মঙ্গলবার

দীপক দাস

একটা খাদ্য-ম্যাপ তৈরির অনেকদিনের ইচ্ছে আমাদের। আশপাশের এলাকায় কোথায় কোনটা ভাল তা নিয়ে মোটামুটি একটা খতিয়ান তৈরি করা। সেই কারণেই মাঝে মাঝে বাইক নিয়ে হানা দেওয়া হয়, এখানে সেখানে। এই দলে পাঁচ থেকে ছ’জন আছি। কারও কাজ, কারও বাড়িতে অসুবিধা ইত্যাদি কারণে সংখ্যাটা বাড়ে কমে। কিন্তু বেশিরভাগ সদস্য সম্মত হলেই বাইক নিয়ে সাঁই সাঁই।

এক মঙ্গলবার গিয়েছিলাম খাঁদারঘাটে। কবিরাজি চিকিৎসা করাতে। মানে ফিস কবিরাজি খেতে। দলের লোকেরা ওটাকেই কবিরাজি চিকিৎসা বলে। আরেক মঙ্গলবার জয়নগরে। সেখানকার চিকিৎসার রীতি, দলের সদস্যদের ভাষায়, অ্যালোপ্যাথি। জয়নগরের মোড়ে খিলা বাজারে টুটুলের চপের দোকানে দারুণ চিকেন পকোড়া করে। আমতার পান্তুয়ার খুব নাম। একদিন সেখানেও অভিযান চলেছিল। কিন্তু সাফল্য আসেনি। পুরনো দোকানগুলির পান্তুয়ার এত চাহিদা যে দুপুরবেলার মধ্যেই গামলা ফাঁকা। বিকেলবেলায় গিয়ে দেখি, গামলায় গামলায় বোলতার ঝাঁক। অবশিষ্ট পান্তুয়ার রস চাখতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আমতায় আর একদিন যেতে হবে। কিন্তু তার আগেই কে প্রস্তাব দিল, ‘জনাই চল’। ওখানকার মনোহরা তো বিখ্যাত।

যন্ত্ররাজ বিভূতির কর্মকাণ্ড।

একদিন বাইক নিয়ে আবার সাঁই সাঁই। বাবলার ঠাকুমা হঠাৎই ইহলোক ত্যাগ করায় ও যেতে পারল না। রাজা বন্ধুদের সঙ্গে পুজোর মার্কেটিংয়ে। দেবু একদিনের ছুটিতে বাড়ি ফিরেছে। ঘর থেকে নড়তে চাইল না। রইল বাকি চার। চারমূর্তিই বেড়িয়ে পড়লুম জনাইয়ের দিকে। সেই বাইকেই। রাস্তায় একহাত ছাড়া ছাড়া হাম্পের হার্ডল টপকাতে টপকাতে চললুম মনোহরা অভিযানে। হুগলি জেলার লক্ষ্মণপুর পেরনোর পরে দেখা মিলল ‘যন্ত্ররাজ বিভূতি’র কর্মকাণ্ডের। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পাওয়ার স্টেশন তৈরির কাজ চলছে। বিরাট বিরাট সব ব্যাপার। আঁইয়া-গোপালপুরে রাস্তার পাশের মাঠে ফুটবল ম্যাচ চলছিল। একটু দাঁড়িয়েছিলুম। তখনই দীপুর চিৎকার, ‘আরে অসীম সাঁতরা রেফারি খেলছেন!’ অসীমবাবু পুরনো দিনের খেলোয়াড়। হাওড়া-হুগলিতে বেশ নাম। এখন খেলা পরিচালনা করেন। প্রতি বছর আমাদের নবারুণ ক্লাব আয়োজিত বুড়োদের খেলায় অংশ নেন। চেনা লোককে দেখে পটাপট ছবি উঠল। কিন্তু আনাড়ি হাতের তোলা! ছবিতে অসীমবাবু বাদ পড়েছেন, স্বাভাবিক ভাবেই।

কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে ফের জনাই যাত্রা।

বাংলার সব গ্রামের রূপই কি একইরকম? আঁইয়া ছাড়িয়ে জনাইয়ের দিকে যেতে যেতে প্রশ্নটা মনে জেগেছিল। মনে হয়, না। বহিরঙ্গে একইরকম মনে হলেও সব জায়গার আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য আছে। ৫৭ নম্বর বনহুগলি রোড়ের আঁইয়া-গোপালপুর-বাঁধপুরের অংশটা অনেক পাকারাস্তারই মতো। দু’ধার থেকে ঘিরে ধরা, ঝুঁকে আসা অনেক গাছ। যেন গাছগাছালির গুহা তৈরি করেছে। এ তো হাওড়া, হুগলি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়াতেও দেখেছি। শুধু গাছগুলো পাল্টে পাল্টে যায়। তবুও যেন আলাদা রূপ। এখানে প্রচুর গাছ। শরতের বিকেল চারটের সময়েও কেমন যেন সন্ধ্যে সন্ধ্যে ভাব। যেতে যেতে একটা দারুণ দৃশ্য চোখে পড়ল। বিশাল একটা গাছ রাস্তার পাশের নয়ানজুলির উপরে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। জীবনরস শুকিয়ে যাওয়া গাছটা নয়ানজুলির উপরে একটা প্রাকৃতিক সেতু তৈরি করেছে। গাছের সেই হেলে পড়া গুঁড়িতে উবু হয়ে বসে এক কিশোর। মাছ ধরছে। পরনে বারমুডা। আর কানে ব্লুটুথ হেডসেট। যাতে মাছ টোপে ঠোক্কর দেওয়ার সময়ে ফোন এলেও পকেটে হাত গলাতে না হয়। ‘টেকনোলজি ফর ম্যানকাইন্ড’ আর কাকে বলে!

ইন্দ্রকে বললুম, ‘বাইক থামা, ছবিটা তোল।’ অসাধারণ ছবি হবে। কিন্তু ও সহজে ক্যামেরা বের করতে চায় না। সেজন্য তো শুভ হুমকি দিয়েই রেখেছে, ‘তোমার জ্বালায় তো দেখছি চাঁদা তুলে ক্যামেরা কিনতে হবে!’ তাছাড়া ইন্দ্রর একটা বাঁধা লব্জ আছে, ‘পরে।’ এখানে সেটা আবার ব্যবহার করল। কী আর করা! ওর ক্যামেরা। ওর বাইক! ওর ইচ্ছের মর্যাদা তো দিতেই হবে। না হলে পরের বার হয়তো ক্যামেরা নিয়ে বেরোবেই নে। সেই ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলার মতো। যার ব্যাট তাকে একটু তোল্লাই দিতে হতো। যেমন এলবিডব্লিউ, রান আউট হবে না সে। শুধু বোল্ড আর ক্যাচআউট। তাও ক্যাচআউটে একটু সন্দেহ থাকলেই ‘বেনিফিট অফ ডাউট’। না হলে ‘মা বকবে’ বলে খেলার মাঝপথে ব্যাট বগলে করে বাড়ি ঢুকে পড়বে।…

কিছুক্ষণের মধ্যেই মশাট পৌঁছে গেলুম। রাস্তা সারাই হচ্ছে। অবস্থা খুবই খারাপ। নাচতে নাচতে এলাকাটা পেরনো গেল। রাস্তায় কোনও মোড় এলেই ইন্দ্রর গাড়ি থমকে যাচ্ছে। কোন পথে যে চলি ভাব আর কী। আবার জিজ্ঞাসা। ওদিকে দীপু আর শুভ বাইক নিয়ে উড়ছে। ইন্দ্রর নয়া কেতার গাড়ি। কিন্তু দীপুর গাড়ি চালানোর সঙ্গে পাত্তা পাচ্ছে না।

জনাইয়ের রাজবাড়ি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই জনাই মোড়। একটা চায়ের দোকানে জিজ্ঞাসা করা গেল, ‘কোন দোকানে মনোহরা ভাল?’ তিনি আবার খুব পড়শিবৎসল। আঙুল দিয়ে দিকনির্দেশ করে আশেপাশের প্রায় সবক’টা দোকান দেখিয়েই বললেন, ‘এদের সবাইয়ের মনোহরা ভাল।’ সে আবার হয় নাকি! বিষয়টি মেনে নেওয়া গেল না। একটু যাচাই করতে হবে। তার আগে এলাকাটা ঘুরে দেখা যাক। জনাইয়ে একটা রাজবাড়ি আছে বলে জেনেছিলুম। সেটার খোঁজ নেওয়া হল। চায়ের দোকানি জানালেন, ‘আপনারা রাজবাড়ি ফেলে এসেছেন।’

আবার ফিরলুম। একদম কাছেই সেটা। ময়রাপাড়ায়। বাইক থেকে নেমে ইন্দ্রকে সকলের সমবেত আবেদন, ‘ক্যামেরা বের করা হোক।’ আমাদের অবাক করে ইন্দ্র ক্যামেরার ব্যাগের বদলে পকেটে হাত দিল। বেরিয়ে এল একটা চিরুনি। সেই চিরুনি দিয়ে বাবুর সে কী উল্টেপাল্টে চুল আঁচড়ানো! দীপকদা তো খেপে লাল। চিৎকার করে বলল, ‘তোকে রাজবাড়ির ছবি তুলতে বলেছি। তুই তো সেলফি তোলার আয়োজন করছিস।’ সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল, দীপু-শুভর টিপ্পনি। শুভর টিপ্পনি আবার টিভির মেগা সিরিয়ালের মতো। চলতেই থাকে। ওর যে কোনও কথাই অবশ্য মালগাড়ি। থামতে জানে না। বক্তব্যের সিরিজ চলে ওর। কয়েক সপ্তাহ ধরে যেমন বারাসতে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার গল্প চলছে। আগে চলত মুর্শিদাবাদে বেড়াতে যাওয়ার গল্প। থামানো যায় না ওকে। জোর করে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চললে ও জোর গলায় বলে, ‘না, আমি বলবই।’

গ্রামেগঞ্জের রাজবাড়ির এখন যা হাল হওয়া স্বাভাবিক, জনাইয়ের রাজবাড়ি সেরকমই। পলেস্তরা খসা, ফাটল ধরা দেওয়াল, ভাঙাচোরা খড়খড়ি লাগানো জানলা, অশত্থ গাছ গজানো ‘কালীপ্রসাদ ভবন’ লেখা নামফলক। যেন খণ্ডহর। বাড়ির সামনে পটুয়ারা প্রতিমা বানাচ্ছেন। ভিতরে ঢুকতে মনে হল, প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ করলুম। ছবিটবি তোলা হল। এখনও রাজবাড়িতে একটি পরিবার বাস করে। সেই পরিবারের কেউ যেন কোনও কিছুতেই প্রবল কষ্ট পাচ্ছেন বলে মনে হল। মাঝে মাঝেই তাঁর চিৎকার কানে আসছে। যেন ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর মেহের আলি। সেই কষ্ট-চিৎকারে ‘সব ঝুটা হ্যায়’ কথাগুলো লুকিয়ে আছে কিনা কে জানে!

রাজবাড়ির অন্দরমহল।

পালিয়ে এলুম সেখান থেকে। সোজা জনাই স্টেশনে। আবার ফটোসেশন। তারপর খোঁজ শুরু হল মনোহরার ভাল দোকানের।

মনোহরার ভাল দোকানের খোঁজ অবশ্য অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। আমাদের দীপুবাবুর এক সহপাঠীর এই এলাকায় বাড়ি। দীপু তাকে ফোন করেছিল। সহপাঠী ফোন তোলেনি। দীপুর সংশয়, ইচ্ছে করেই ফোন তোলেনি। বলছিল, ‘ও খুব কিপটে। ইউনিভার্সিটিতে একদিন মনোহরা আনতে বলেছিলুম। তিনদিন কামাই!’ না, আমরা সেই চায়ের দোকানির উপরে ভরসা রাখতে পারিনি। নিজেরাই খোঁজ করতে শুরু করেছিলুম। করার কারণও আছে। কারণ, এখানে আসার আগে যাঁর কাছেই মনোহরার খোঁজ নিতে গিয়েছি তিনিই হতাশভাবে মাথা নাড়তে নাড়তে বলেছেন, ‘সেই মনোহরা আর আছে! সব তো চিনির ডেলা।’ কথাটা বিশ্বাস করিনি। একটা না একটা ভাল দোকান থাকেই। আমতার পান্তুয়া বা বর্ধমানের সীতাভোগ-মিহিদানার ক্ষেত্রে এরকম ভুল আমাদেরও হয়েছিল।

দ্বিতীয়বারের ফোনে দীপুর বন্ধুটি সাড়া দিল। এবং একটা দোকানের নাম বলল। জনাই স্টেশনে যাওয়ার সময়ে সেই দোকানটাও দেখলুম। দোকানের শোকেসে ঝাঁকে ঝাঁকে বোলতা। দীপু বলল, ‘বেশি বোলতা মানেই বেশি চিনি। ওই দোকান বাতিল।’ ওর প্রাণীবিদ্যা পড়া আছে। তাই দীপুবাবুর ইচ্ছে গুরুত্ব পেল। স্টেশনের দক্ষিণপ্রান্তে একটা দোকানে চা খেয়েছিলুম। সেই দোকানদার বললেন, কালীতলায় কমল ময়রার দোকানে খোঁজ নিতে। জ্ঞানীরা বলেন, যাচাই করো। কথা বলো। তাহলে ঠিক দিশা পাবে। আবার যাচাই শুরু হল। নবীন নয়, এবার প্রবীণদের খোঁজ। এলাকায় মোঘলাই থেকে মার্কিন হরেককিসিমের খাবার দোকান। আধুনিক প্রজন্মের কাছে মনোহরার জাদু ফিকে হয়ে আসতেও পারে।

মনোহরা হাঁড়িবদ্ধ।

স্টেশনের কাছে একটা ছোটখাট বাজার। সেখানেই ছোটখাট একটা সেলুন। দুই বৃদ্ধ গল্প করছেন। তাঁদের কাছেই আর্জি জানানো গেল। একজন বললেন, ‘এই তো কালীতলা বাজারে যাও। মোড়ের মাথায় দোকানটা। কী যেন নাম।’ বয়সের ভারে স্মৃতি ফিকে হয়ে আসা বৃদ্ধ পাশে বসা সঙ্গীকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আরে বলো না, দোকানটার নাম।’ অন্যের মনের কথা টেনে বের করতে পারেন দু’কিসিমের লোক। ম্যানড্রেকের মতো জাদুকর নয়তো পুলিশ। পাশের জন চুপ করেই রইলেন। বৃদ্ধ অনেক ভেবে, কপাল টিপে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠে বললেন, ‘ললিত ময়রার দোকান।’

পথনির্দেশমতো মিলল দোকান। শুভ জিজ্ঞাসা করল, ‘এটা কি ললিতবাবুর দোকান?’ দোকানি জানালেন, ‘ললিতবাবু আমার দাদুর নাম।’ আমরা অবাক। ললিতবাবুর নাতিটির বয়স হবে সত্তরের কাছাকাছি। লোকে এখনও তাঁর দাদুর নাম বলছেন! তার মানে এখন আর সেই মনোহরা নেই। ঠকে যাওয়ার ভয়ে চেখে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। একটা করে চাখলাম সকলে। এবং মন হরণ করে নিল ললিত ময়রার নাতির মিষ্টি। ওই দোকান থেকেই সব কেনা হবে, ঠিক হল। হিসাব করে দেখা গেল, ৯০টার মতো মনোহরা লাগবে আমাদের চারজনের। কিন্তু দোকানে আছে ৭৬টা। কী হবে? কে কম নেবে? কেউই রাজি নয়। সকলেরই নাকি দেওয়ার লোক আছে! আমার অফিসে অনেকগুলো ছানাপোনা আছে। তাদের জন্য নেব। সীমান্ত এলাকায় দীপুর বন্ধুরা (আমাদের স্থির বিশ্বাস বান্ধবী) আছে। শুভর আত্মীয় (মানে যার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক) আছে। ইন্দ্র অবশ্য অতোটা উদার নয়। ওর নিজেরই অনেকগুলো লাগবে। দোকানে দাঁড়িয়ে একটামাত্র চাখতে পেরেছে। তাতেই অনেকক্ষণ থেকে ঘ্যানঘ্যান করছিল, ‘একটামাত্র খাব। মাত্র একটা!’ শেষে আমাকেই দাবি ছাড়তে হল। দলে আমিই বড়। আর বড় মানেই বেচারা!

মনোহরা একক।

বেশি সংখ্যায় নিলে রসগোল্লার মতো মনোহরাও হাঁড়িতে করে নিতে হয়। দোকানদার হাঁড়ি সাজাচ্ছেন আর আমরা তাঁকে বকাচ্ছি। কথায় কথায় জানা গেল, এখনকার মালিক, ললিতবাবুর নাতির নাম নবকুমার দাস। তাঁর বাবা কমলকৃষ্ণ দাস। স্টেশনের চায়ের দোকানি কমল ময়রা বলতে এঁর নামই বোধহয় বলেছিলেন। কমলবাবুর বাবা ললিতমোহন দাস। নবকুমারবাবুর দাবি, দোকানের বয়স ১০০ বছরের অনেক বেশি। তাঁদের দোকানের কোনও নাম নেই। কোনওদিন ছিলও না। সেই জন্যই বোধহয় লোকে মালিকের নামে দোকানের পরিচয় দেন।

ব্র্যান্ড নিয়ে যাঁরা আদিখ্যেতা করেন তাঁরা একবার নবকুমারবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। নাম ছাড়া, আমাদের দোকান আদি, আমাদের কোনও শাখা নেই দাবি ছাড়া, শতাব্দীব্যাপী কীভাবে ‘বিজনেস’ করতে হয় তার কিছুটা সূত্র তো শেখা যেতেই পারে তাঁর কাছ থেকে।

মনোহরা মিষ্টিটা কেমন? খেতে অনেকটা কাঁচাগোল্লার মতো। কিন্তু নানা সুগন্ধি মশলা দেওয়া। সেই সুগন্ধ ধরে রাখার জন্য গোল্লার ওপরে চিনির রসের একটা আস্তরণ দেওয়া হয়। আর গোল্লাটা বসে থাকে জমাট চিনির একটা পৈঠায়। সবমিলিয়ে দেখতে অনেকটা ফিফা বিশ্বকাপের মতো।

এমন মিষ্টির জন্মরহস্যটা কী? নবকুমারবাবু সে কথা জানেন না। তবে জানালেন, এই এলাকাতেই ভীম নাগের বাড়ি। তাঁদের কারও অবদান থাকতে পারে মনোহরার জন্মে। অন্য একটা গল্পও প্রচলিত আছে। সেটা রাজরাজড়াদের কৃতিত্ব দাবি করা গল্পের মতো। যেমন লেডি ক্যানিংয়ের সম্মানে তৈরি হয়েছিল লেডিকেনি। ময়রাপাড়ায় যে রাজপ্রাসাদ দেখেছি তারই ফেসবুক পেজে গল্পটি লেখা। রাজার বংশধরেরা এখন কলকাতাবাসী। তাঁদেরই কেউ লিখেছেন, কালীপ্রসাদবাবুর বংশেরই কেউ নাকি তাঁর প্রজা ময়রাদের নতুন ধরনের সন্দেশ তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। ময়রা বা ময়রারা নতুন সন্দেশ তৈরি করেন। কিন্তু রাজা তখন বাইরে। তিনি ফিরতে ফিরতে সন্দেশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই চিনির আস্তরণের ব্যবস্থা।

সন্দেশশ্রী ভীম নাগের বাড়ি।

উৎপত্তির কারণ যাই হোক না কেন, একটা দারুণ জিনিস উদ্ভাবন হয়েছিল। তারই ফল আমরা তিনটে হাঁড়িতে ভরে বাড়ি ফিরেছি।

পুনশ্চ— জনাইয়ে আরেকটি মিষ্টিও মেলে। লম্বা বোঁদে। জানা ছিল না বলে অভিযানের দিন খেতে পারিনি। পরে একজনকে দিয়ে আনিয়ে খেয়েছিলুম।

সমাপ্ত

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *